Image description

সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাজেট উপস্থাপন শুরু করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় তিনি বাজেট পেশ শুরু করেছেন।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম বাজেট পেশ করা হয়েছে। মহান সংসদে বাজেট প্রস্তাবনা উত্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের ধ্বংসস্তূপ থেকে সামষ্টিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলতা এবং বাজার শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মেরুকরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সব মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহিপূর্ণ এবং টেকসই ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ’ নিশ্চিত করাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি সামাল দিতে ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে আগামী অর্থবছরে দেশের মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে এ উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে, জনমিতিক ও গণতান্ত্রিক লভ্যাংশের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার সুনির্দিষ্ট পথ-নকশাও এই বাজেট তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী।

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের সার্বিক উন্নয়নে ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো সব অঞ্চল ও শ্রেণীর সুষম অংশীদারিত্বে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা, তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরে বাস্তবমুখী শিক্ষা ও সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে জীবনচক্রভিত্তিক সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি।

এছাড়া সুষম কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, সরকারি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী ব্যবসার পরিবেশ (বিনিয়ন্ত্রণকরণ) এবং ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা করাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে নিরবচ্ছিন্ন ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিরাপত্তা, বাংলাদেশকে শীর্ষ আইসিটি রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তর, নদী খনন ও বনায়নের মাধ্যমে টেকসই পরিবেশ-পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে সরকার।