সীমান্তের আন্তর্জাতিক শূন্যরেখায় পড়ে আছেন এক বৃদ্ধ। বিএসএফের পুশইনের চেষ্টার পর গত দুই দিন ধরে এখানেই আছেন তিনি।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা প্রতিহত করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ফলে কোনো দেশের ভূখণ্ডেই প্রবেশ করতে পারেনি বৃদ্ধ। বর্তমানে সীমান্তের ১০৮২ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের পাশে অনাহার-অর্ধাহারে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।
বুধবার জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের রামরামপুর সীমান্ত এলাকায় দেখা যায় এমন মানবিক সংকটের চিত্র।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত সোমবার গভীর রাতে বিএসএফ সাতজন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবি ও সীমান্তসংলগ্ন গ্রামবাসীদের যৌথ প্রতিরোধের মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পুশইনের শিকার ছয়জন অন্ধকারের সুযোগে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে সক্ষম হলেও শূন্যরেখায় আটকা পড়ে যান ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ।
স্থানীয়রা জানান, বৃদ্ধটি বাঁচার তাগিদে যেদিকেই যাওয়ার চেষ্টা করছেন, সেদিক থেকেই তাকে তাড়া করা হচ্ছে। একদিকে বিএসএফের অবস্থান, অন্যদিকে বাংলাদেশের সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি। ফলে তিনি মাঝখানে আটকে পড়েছেন। প্রখর রোদ, বৃষ্টি এবং সাপ-পোকামাকড়ের ঝুঁকির মধ্যেও তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। মানবিক কারণে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বিজিবির নজরদারির ফাঁকে তার কাছে পানি ও শুকনো খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন। সেগুলো খেয়েই কোনোভাবে টিকে আছেন তিনি।
এ বিষয়ে বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বেলায়েত হোসেন বুলাল বলছিলেন, শুধু মুসলিম হওয়ার কারণে একজন বৃদ্ধ মানুষকে কাঁটাতারের বেড়া পার করে পুশইন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। লোকটি না পারছে ভারতে যেতে, না পারছে বাংলাদেশে আসতে। অনাহারে থাকা মানুষটি যেদিকে যায়, সেদিক থেকেই ধাওয়া দেওয়া হচ্ছে। এমন অমানবিক দৃশ্য নিজের চোখে দেখে ভীষণ খারাপ লাগছে।
পরিস্থিতি নিরসনে বুধবার সকাল ১০টায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পরও বিএসএফ ওই বৃদ্ধকে তাদের দেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করেনি এবং তাকে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে বৈঠকটি কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জামালপুর-৩৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেছেন, বিএসএফ একজনকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল, আমরা সতর্ক অবস্থান নিয়ে তাকে প্রতিহত করেছি। লোকটি এখনো শূন্যরেখায় রয়েছে। তবে বর্তমানে আমাদের সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ও শান্ত রয়েছে।