গণঅভ্যুত্থানের পর ভারত থেকে দেশে ফেরেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তখন আলোচিত-সমালোচিত ব্যবসায়ী এস আলমের মালিকানাধীন একটি গাড়িতে চড়ে নিজ এলাকায় গিয়ে সংবর্ধনা নেন। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সেই পুরোনো বিতর্ক আবারও উঠে এল।
বুধবার (১০ জুন) সংসদে এক আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নজিবুর রহমান এ প্রসঙ্গ টেনে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘নুন খেয়ে’ কিছু করছেন।
পরে জবাব দিতে গিয়ে নজিবুর রহমানকে উদ্দেশ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমি তার ‘সেন্স অব হিউমার’-এর প্রশংসা করছি। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি কোনো ব্যক্তির গাড়িতে চড়ে সংবর্ধনা নেননি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নজিবুর রহমানের উত্থাপিত মন্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানান।
নিজের আর্থিক সক্ষমতার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার চারটি গাড়ি আছে, আমার চারজন ড্রাইভার আছে। আমি খুব একটা গরিব না।
ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিদেশ থেকে ফেরার পর আমি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলাম। বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর কক্সবাজারে যখন গিয়েছি, অভ্যর্থনা জানাতে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছিল। সে সময় বিমানবন্দরে কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি প্রবেশ করতে পারেনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারে যখন আমি গিয়েছি, লক্ষ লোকের সমাবেশ হয়েছিল। কোনো গাড়ি বিমানবন্দরে ঢোকার সুযোগ পায়নি। অনেক মাইক্রোবাস ছিল। একটাতে উঠলাম, সেখানে জায়গা হলো না। আরেকটাতে উঠলাম। পরে সমর্থকরা পাঁচ নম্বরে গিয়ে একটা গাড়িতে উঠতে বললেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, পরে তিনি জানতে পারেন যে গাড়িটি বহু পুরোনো এবং সেটি নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তার বাস্তব ভিত্তি নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সেটা কোনো ব্যক্তির নামে গাড়ি না। ১৭ থেকে ১৮ বছর আগের একটি গাড়ি। তারপরও যদি সেটা ভুল হয়ে থাকে, আমি জাতির সামনে দুঃখ প্রকাশ করেছি। বিষয়টি তখনই পরিষ্কার হয়ে গেছে। এটা একটা পুরোনো ইস্যু। তবে তার ‘সেন্স অব হিউমার’কে আমি আগামীবারও স্বাগত জানাব।
জবাবে স্পিকার বলেন, বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। সংসদের কার্যবিবরণীতে অসংসদীয় কোনো বক্তব্য থেকে থাকলে তা বিধি অনুযায়ী বাদ দেওয়া হবে।