Image description

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে যৌথ আলোচনায় এ ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির।

গতকাল রোববার সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির নিজ চেম্বারে সাংবাদিকদের বলেন, প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি আগে ঘোষিত অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বহাল থাকবে। প্রত্যেক পরিবারকে ইতোমধ্যে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে শনিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দীর্ঘমেয়াদে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা কর্মসূচিরও ঘোষণা দেওয়া হয়।

ঘোষণা অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাবা, মা, ভাইবোন ও সন্তানরা আদ্-দ্বীন হাসপাতাল এবং এর অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোতে আজীবন ওষুধ ব্যতীত অন্যান্য সব ধরনের চিকিৎসাসেবা বিনামূল্যে পাবেন। এছাড়া আদ্-দ্বীন পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যোগ্যতা অনুযায়ী বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ দেওয়া হবে। মেডিকেল কলেজ বা অধিক ব্যয়বহুল শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ বৃত্তি কিংবা টিউশন ফি মওকুফের ব্যবস্থাও রাখা হবে। পরিবারের যোগ্য সদস্যদের জন্য আদ্-দ্বীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ প্রদানের কথাও জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিসের জবাব দিতে ৯ জুন পর্যন্ত অর্থাৎ আরো ৪৮ ঘণ্টা সময় পেয়েছে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল।

রোবরার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদনের পেরিপ্রেক্ষিতে আরো ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। ৯ জুন বিকাল ৫টার মধ্যে তাদের শোকজের জবাব দিতে হবে। তবে কারণ দর্শানো নোটিসের জবাব দেওয়ার এ পর্যায়ে ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণের কোনো আইনগত সুযোগ নেই।

এর আগে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় কেন লাইসেন্স বাতিল হবে না, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সে জবাব দিতে আরো ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়ে চিঠি দেয় আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে গত ২৭ মে ভোরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পর্যবেক্ষণে থাকা ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় ইতোমধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত তদন্ত কমিটি।

গত শনিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এক অনুষ্ঠানে বলেন, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর হাসপাতালটির লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।