Image description
ঈশ্বরদীর বিখ্যাত লিচু সংরক্ষণে হিমাগার বা আধুনিক সংরক্ষণাগার স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, লিচু সংরক্ষণে সবচেয়ে উপযোগী ও ব্যয়-সাশ্রয়ী সমাধান খুঁজে বের করতে সরকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণার উদ্যোগ নেবে।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল ৩টায় পাবনার ঈশ্বরদীর মিরকামারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত লিচু উৎসব ও কৃষি বাণিজ্য মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “ঈশ্বরদীসহ এই অঞ্চলের মানুষ কৃষির সঙ্গে আত্মিকভাবে সম্পৃক্ত। যে অঞ্চলের মানুষের কৃষির সঙ্গে এমন সম্পর্ক রয়েছে, সেই অঞ্চলই বাংলাদেশের কৃষিতে নেতৃত্ব দিতে পারে।”
তিনি বলেন, “আমরা যাচাই করব, ঈশ্বরদীতে লিচুর জন্য কোনো সংরক্ষণাগার বা হিমাগার করা যায় কিনা। আমাদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সমাধান হবে এমন, যা ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
লিচুর উৎপাদন ও সংরক্ষণ নিয়ে গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “কৃষিমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে অবহিত করব এবং এ বিষয়ে গবেষণার অনুরোধ জানাব। গরম, কীটনাশক বা অন্য যেকোনো কারণে লিচুর যে ক্ষতি হচ্ছে, তার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে কার্যকর সমাধান বের করতে হবে।”
তিনি কৃষকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের প্রতিটি উদ্ভাবনী উদ্যোগে সরকারের সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে। আপনারা দোয়া করবেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে, আমরা যেন সেই দায়িত্বের হক আদায় করতে পারি।”
এর আগে কৃষি বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব।
বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ময়েজের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল কিতাব মন্ডলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপপরিচালক কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক, ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইবসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
আয়োজকদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক:
এদিকে, মেলার আয়োজকদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হওয়ার অভিযোগ তুলে সচেতন এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে— কীভাবে তাদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের দুইজন মন্ত্রী অংশগ্রহণ করলেন।
সমালোচকদের অভিযোগ, মেলার অন্যতম উদ্যোক্তা সিদ্দিকুর রহমান ময়েজ ওরফে কুল ময়েজ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, তিনি ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক’সহ বিভিন্ন সরকারি স্বীকৃতি এবং স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা লাভ করেছেন। একইসঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগের অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সালের ২ ও ৩ জুন বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটির ব্যানারে ঈশ্বরদীতে দুই দিনব্যাপী লিচু মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন নীরব থাকলেও বর্তমানে নতুন করে সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, কৃষক পরিচয়ে তারা বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, “লিচু মেলার সঙ্গে জড়িত অধিকাংশ ব্যক্তি অতীতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। তাদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের দুইজন মন্ত্রীর অংশগ্রহণ আমাদের বিস্মিত করেছে।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
 
ওহিদুল ইসলাম সোহেল
ঈশ্বরদী (পাবনা)