Image description

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেট সংলগ্ন মালামাল রাখার একটি স্থানে শুক্রবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা-সংবেদনশীল এলাকায় আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তবে দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আগুন বড় আকার ধারণ করতে পারেনি। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১১টা ২৪ মিনিটে আগুন লাগার সংবাদ পাওয়া যায়। খবর পাওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে, রাত ১১টা ২৭ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে চারটি ইউনিটের সমন্বিত চেষ্টায় রাত ১১টা ৩৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটের পাশে মালামাল সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত একটি স্থানে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগুনের ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম কিংবা ফ্লাইট পরিচালনায় তাৎক্ষণিক কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয় এবং সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পরপরই ওই এলাকা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। দ্রুত সাড়া দেওয়ায় আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়নি।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ও মালামাল সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা অতীতে অগ্নিকাণ্ডের কারণে আলোচনায় এসেছিল। গত বছরের ভয়াবহ কার্গো ভিলেজ অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলেও নতুন এই ঘটনা সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আগের সেই অগ্নিকাণ্ডে বিপুল পরিমাণ আমদানি-রপ্তানি পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতের আগুনের উৎস, সম্ভাব্য কারণ এবং কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

বিমানবন্দর এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আপাতত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।