Image description

উত্তরবঙ্গের লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বেশ কয়েকটি সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইন চেষ্টা ঠেকিয়ে দিয়েছে বিজিবি।

আজ শুক্রবার দুপুরেও কয়েকটি সীমান্তে বেশ কয়েকজন পুরুষ-নারী-শিশুকে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

সীমান্তের দুইপাশে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

 

লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের ৩টি পৃথক সীমান্তে অন্তত ৩৩ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ।

আজ শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে বড়খাতা, পয়ষট্টিবাড়ি, দুর্গাপুর ও দিঘলটারী বিওপি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সীমান্ত
লালমনিরহাট সীমান্ত দিয়ে অন্তত ৩৩ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। 

লালমনিরহাট সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী ১৫ বিজিবি ও ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষ দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ঈমাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, পুশ-ইন করা নারী-পুরুষদের সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, 'সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভারত থেকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টার ব্যাপারে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

 

বিজিবি মিডিয়া সেল জানায়, ৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধীনে থাকা বড়খাতা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ভোর ৫টার দিকে ১১ জন এবং পয়ষট্টিবাড়ি বিওপি এলাকায় ১০ জনকে ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়।

খবর পেয়ে বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়। এতে পুশ-ইন হওয়া নারী-পুরুষরা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি এবং বর্তমানে তারা ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে অবস্থান করছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে বিজিবি।

অন্যদিকে, একইসময়ে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন দুর্গাপুর ও দিঘলটারী বিওপির টহলদল সীমান্ত পিলার ৯২৫ ও ৯২৭ এর কাছে ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় আরও ১২ জনের উপস্থিতি লক্ষ্য করে।

বিজিবি সদস্যরা তখন মাইকে সতর্ক করলে তারা ভারতীয় সীমান্ত অতিক্রম করেননি।

বিজিবি জানায়, ঠেলে দেওয়া ব্যক্তিরা ভারতীয় সীমান্তের ভেতরেই অবস্থান করছেন। বিষয়টি নিয়ে ৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

পঞ্চগড়

পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ।

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, বিএসএফ তাদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করলেও তাদের পরিচয় এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সীমান্ত
পুশ-ইন চেষ্টার পর সীমান্ত সংলগ্ন জমিতে অপেক্ষারত নারী-পুরুষ-শিশু। 

তিনি বলেন, 'পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী সীমান্তে এভাবে এক দেশ থেকে মানুষকে অন্য দেশে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ নেই।'

ওই সীমান্তের উভয়পাশে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শূন্যরেখায় অবস্থানকারী ৫ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ শিশু সীমান্ত সংলগ্ন জমিতে অপেক্ষা করছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবির বড়বাড়ি ক্যাম্প ও বিএসএফের সাকাতি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডারদের মধ্যে বড়বাড়ি সীমান্তে আজ সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত পতাকা বৈঠক হয়েছে। তবে আলোচনায় শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।

এ ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইন ঠেকাতে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও সর্তক টহল অব্যাহত আছে বলে জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইন চেষ্টার পর ২৮ জনকে আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করতে দেখা গেছে।

ইউএনবি জানায়, বিজিবি এই পুশ-ইন চেষ্টা ঠেকিয়ে দিয়েছে।

সীমান্ত

নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, গত বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তের ২০৩/৬ এস নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকা দিয়ে বিএসএফ ২৮ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে।

তিনি জানান, তাদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬ জন শিশু।

এ সময় বাঙ্গাবাড়ি বিওপির বিজিবি টহল দল বাধা দিলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে প্রথমে কোম্পানি কমান্ডার এবং পরে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়।

বৈঠকের শুরুতে বিএসএফ পুশ-ইনের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকে স্বীকার করে নেয়।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, পতাকা বৈঠকে বিএসএফ জানিয়েছিল বিষয়টি তারা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবে। এরপর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত বিজিবিকে জানানো হবে।

তবে, আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

তিনি জানান, বর্তমানে ওই ২৮ জন সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।