তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার মধ্যেই বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জন্য টি–১২৯ ‘আতাক’ কমব্যাট হেলিকপ্টার কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঢাকায় সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
শুক্রবার ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তুর্কি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান তিন দিনের সফরে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় পৌঁছান। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ফিদানের এই সফরকে আঙ্কারা-ঢাকা সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্ব পায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে তুরস্কের কাছ থেকে বায়রাকতার টিবি–২ ড্রোন এবং টিআরজি–৩০০ রকেট সিস্টেম সংগ্রহ করেছে। এবার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জন্য টি–১২৯ ‘আতাক’ কমব্যাট হেলিকপ্টার কেনার বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়।
এর আগে তুর্কি গণমাধ্যম জানিয়েছিল, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মোট ছয়টি টি–১২৯ কমব্যাট হেলিকপ্টার ২০২৭ সালের মধ্যে সরবরাহ করা হতে পারে। এটি প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ইউরোর একটি বৃহত্তর প্রতিরক্ষা প্যাকেজের অংশ, যেখানে রোকেতসান ও আসেলসানের তৈরি হিসার-ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শুধু কেনাকাটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। দুই দেশ যৌথভাবে সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ড্রোনসহ আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশীয়ভাবে উৎপাদনের বিষয়েও আলোচনা করছে।
এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি ঢাকায় তুরস্কের টার্কিশ অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (টিএআই)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের বৈঠকেও টি–১২৯ হেলিকপ্টার নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে “ফোর্সেস গোল ২০৩০” কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় ইতালির লিওনার্দো কোম্পানির সঙ্গে ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে লেটার অব ইন্টেন্ট (LoI) স্বাক্ষর হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কের সঙ্গে এই সহযোগিতা শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্য ১৩০ কোটি ডলার থেকে ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে হাকান ফিদানের ঢাকা সফরকে বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্কের একটি নতুন কৌশলগত অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে প্রতিরক্ষা শিল্পই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে এসেছে।