বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (র.) মাজার সংলগ্ন ঠাকুর দিঘিতে থাকা একমাত্র নারী কুমিরটিকে অপসারণ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সাড়ে ছয় শতাব্দী ধরে চলে আসা মাজারের দিঘিতে কুমির থাকার ঐতিহ্যের অবসান ঘটল।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে স্থানীয়দের সহায়তায় বন বিভাগের কুমির বিশেষজ্ঞ দল দিঘির পূর্বপাড়সংলগ্ন একটি ছোট পুকুর থেকে কুমিরটিকে ধরে। পরে প্রাণীটির চোখ ও পা বেঁধে বিশেষ ব্যবস্থায় বন বিভাগের গাড়িতে তোলা হয়। এরপর খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তরের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
কুমিরটি উদ্ধারে সকাল থেকেই বন বিভাগ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাজার এলাকায় অবস্থান নেন। বেলা ১১টার দিকে দিঘির পূর্বপাড়ে কুমিরটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে সেটিকে নিয়ন্ত্রণে এনে বেঁধে ফেলা হয়। দুপুর ১২টার দিকে সফলভাবে কুমিরটিকে দিঘি থেকে তুলে নেওয়া হয়।
তিন দিন আগে এই কুমিরের আক্রমণে ফাতেমা নামে সাত বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়। এর আগেও কুমিরটির একাধিক আক্রমণের ঘটনা ঘটেছিল। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় জননিরাপত্তার স্বার্থে কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কুমির অপসারণে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দিঘির পাড়ে অবস্থানরত স্থানীয় বাসিন্দা কুলসুম বেগম বলেন, খানজাহান আলীর (র.) আমল থেকে কুমির ছিল বলে শুনে আসছি। আগের কুমিরগুলো শান্ত ছিল। কিন্তু এই কুমিরটিকে আমরা খুব ভয় পেতাম। দিঘির কাছে যেতেও আতঙ্ক লাগত। এটি অনেক হিংস্র হয়ে উঠেছিল।
মাজারে ঘুরতে আসা বাগেরহাট সদর উপজেলার খাদ্দার এলাকার বাসিন্দা আরিফ শেখ বলেন, খানজাহান আলীর (র.) মাজারের দিঘির কুমির ছিল বাগেরহাটের অন্যতম ঐতিহ্য ও আকর্ষণ। আগে কয়েকটি কুমির সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আর ফিরিয়ে আনা হয়নি। আজ শেষ কুমিরটিও চলে গেল। মনে হচ্ছে একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
কুমির বিশেষজ্ঞ আজাদ কবির বলেন, প্রায় ৬০০ কেজি ওজনের মাদি (স্ত্রী) কুমিরটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। এখন এটিকে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মাজারের দিঘি থেকে কুমিরটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত এটিকে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হবে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।