নাঈম হোসেন। বাড়ি বগুড়া জেলার সান্তাহার পেওতা গ্রামে। চারটি মোবাইল ফোন, ৩৮টি সিমকার্ড, একাধিক ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমু ব্যবহার করেন। অডিওকলে নিজের পরিচয় দেন কখনো পুলিশ সুপার, কখনো ওসি অথবা ডিসি। রাজনৈতিক দলের বড় নেতাও পরিচয় দিতেন।
গত ২৫ মে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে এক হোমিও ওষুধ ব্যবসায়ীর কাছে ফোন দেন তিনি। বলেন, ‘আপনার ওষুধ সেবন করে একজন শিশু মারা গেছে। ৫০ লাখ টাকা না দিলে আপনার নামে এখন মামলা হবে।’ ব্যবসায়ী মামলার ভয়ে মোবাইল ব্যাংকিং নগদের মাধ্যমে ২০ হাজার ৩০০ টাকা পাঠান।
কয়েকদিন পর হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে সিআইডির এসপি জাহিদ পরিচয়ে ফোন ও মেসেজ দেন একজন বিকাশ এজেন্টকে। ‘আপনার দোকান থেকে অনলাইন জুয়ার লেনদেন করা হয়।’ এরপর ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। ‘টাকা না দিলে মামলা হবে’ এমন ভয় দেখানো হয়।
এভাবে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন নাঈম। একটি অভিযোগের সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালানোর পর বেরিয়ে আসে এসব তথ্য। তাকে আটক করে নওগাঁ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বললেন, ‘জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা এবং পুলিশ সুপারের আইসিটি শাখা প্রতারক নাঈমকে দ্রুত খুঁজে পায় এবং অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন, ৩টি মেমোরি কার্ড ও বিভিন্ন কোম্পানির ৩৮টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়। এ বিষয়ে আইনিব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।