শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির বড় ভাই ওমর হাদির আলোচিত দুই পোস্ট নিয়ে কথা বলেছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
তিনি বলেন, ‘ওমর হাদি যেই দুইটা পোস্ট করেছেন, এই দুইটা আপনারাও যখন দেখেছেন আমরাও তখনই দেখেছি; মানে এমনটা না যে আমাদের সাথে আলোচনা করে উনি এই পোস্ট দুটি দিয়েছেন। এটা উনি কেন দিয়েছেন এটার উত্তর উনি সবচেয়ে ভালো দিতে পারবেন। কারণ আপনারা জানেন যে ইলেকশন কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের নেগোসিয়েশন হয়।’
বুধবার (৩ জুন) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
জাবের বলেন, ‘আমার জানামতে বিএনপি এবং জামায়াত উভয় দলই শহীদ ওসমান হাদির সাথে বিভিন্ন পর্যায়ে নেগোসিয়েশন করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকেও ঢাকা আট থেকে ইলেকশন না করবার ব্যাপারে (বলা হয়েছে)...।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে এই ঢাকা আট এবং বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক বিভিন্ন সমীক্ষা, সেখানে ঢাকা আট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কারণে প্রত্যেকটা দলই চাইবে যে ঢাকা আট তার হাতে থাকুক। সেই জায়গা থেকে বিএনপি এবং জামায়াত প্রত্যেকেই তার সাথে নেগোসিয়েশন করেছে এবং তারা বলেছে যে, আপনি যদি অন্য কোনো আসন থেকে ইলেকশন করতে চান সেক্ষেত্রে আমরা আপনাকে সহায়তা করব। এটা বিএনপি এবং জামায়াত দুই দলই (বলেছে)। তো এর বাইরে আমার কাছে অন্য কোনো তথ্য নাই এবং ইনকিলাব মঞ্চের কাছেও এই ব্যাপারে আর কোনো তথ্য নাই। এই ব্যাপারে তারাই সুস্পষ্ট বক্তব্য দিতে পারবেন যে সে কেন এই কথাগুলো বলেছে।’
এর আগে, মঙ্গলবার রাতে দেশের কয়েকজন রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে ফেসবুকে দুটি পোস্ট দেন ওমর হাদি।
প্রথম পোস্টে ওমর হাদি লেখেন, ‘শহীদ ওসমান হাদির খুনের সঙ্গে ইন্টেরিম সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং বিএনপি সরকারের কয়েকজন এমপি-মন্ত্রী সরাসরি জড়িত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করুন। হাদি হত্যার বিচার না করলে আপনাকেও এরা হত্যা করবে। যেভাবে আপনার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছে। হাদি হত্যার বিচার আপনি না করলে আপনাকে হত্যা করলেও কেউ বিচার করবে না। হাদি হত্যার বিচার বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য রেড লাইন। হাদি হত্যার বিচার করুন।’
দ্বিতীয় পোস্টটিতে তিনি লেখেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরিতে আমিরে জামায়াতের একজন ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জড়িত। হাদিকে ঢাকা-০৮ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রেসার দিছে আমাদের।’
উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে কর্মরত (চুক্তিভিত্তিক) রয়েছেন ওমর বিন হাদি। তিনি সরকারি কর্মকর্তা হয়ে এ ধরনের পোস্ট দিতে পারেন কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, তিনি বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন।