Image description

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী (মঙ্গলবার পদত্যাগকৃত) দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় বিএনপি’র উপজাতি বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মনীষ দেওয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বক্তব্যে বিস্ফোরক দাবি করেছেন। মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি অভিযোগ করেন, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন সুপারিশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট মতবিরোধের জেরেই দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। সূত্র: মানবজমিন

মনীষ দেওয়ানের দাবি, আসন্ন রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে তিনি নিজেই মনোনয়নের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত ছিলেন এবং দীপেন দেওয়ান তার নাম সুপারিশ করেছিলেন। তিনি বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ১৯৭১ সালের ১৭ই ডিসেম্বর রাঙ্গামাটিতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র উপজাতি বিষয়ক সহ-সম্পাদক হিসেবে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে কাজ করে আসছেন। অপরদিকে তার অভিযোগ অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি’র সভাপতি দীপেন তালুকদার দীপুকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন।

চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত সেই বিরোধই তার পদত্যাগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে দাবি করেন তিনি। স্ট্যাটাসে মনীষ দেওয়ান লিখেছেন, শুধু সুপারিশের এই যুদ্ধে আমাদের পূর্ণমন্ত্রী, পাহাড়ি-বাঙালির প্রাণপ্রিয় নেতা, সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধি হেরে গেছেন। এমনকি তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার কাছ থেকে পদত্যাগপত্র আদায় করা হয়েছে। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পরপরই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই স্ট্যাটাসটি ভাইরাল হয়ে পড়ে।

পাহাড়ি অঞ্চলের বিএনপি’র তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজেও এটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হয়। অনেকেই মন্ত্রীর পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এদিকে পার্বত্য রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের নেতৃত্ব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই বিতর্ক আগামী দিনে পার্বত্য অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে মনীষ দেওয়ানের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে।আস