Image description

বরিশালের মুলাদীতে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিএনপি নেতাকে মারধর করে ছিনতাই করা টাকায় ভূরিভোজ করার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে।

 

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বোয়ালিয়া গ্রামের মোসলেম ব্যাপারীর বাড়ির সামনে ছিনতাইয়ের এ ঘটনা ঘটে।

ওই দিন দিবাগত রাত ৪টার দিকে একই গ্রামের সফিক ব্যাপারীর বাড়িতে ভূরিভোজ করা হয়।

এ ঘটনায় ছিনতাইয়ের শিকার আব্দুল মান্নান হাওলাদারের ছেলে আল আমিন হাওলাদার বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে সোমবার রাতেই মুলাদী থানায় মামলা করেছেন। 

হামলা ও মারধরের শিকার আব্দুল মান্নান হাওলাদার পশ্চিম বোয়ালিয়া গ্রামের তোফেল হাওলাদারের ছেলে। তিনি সফিপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি এবং সোনামদ্দিন বন্দরের মাংস ব্যবসায়ী। একই গ্রামের সেলিম ব্যাপারীর নেতৃত্বে ১০-১২ জন আওয়ামী লীগ কর্মী আব্দুল মান্নান হাওলাদারকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেন তার ছেলে। 

আল আমিন হাওলাদার মামলায় উল্লেখ করেন, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার বাবা আব্দুল মান্নান হাওলাদার বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি পশ্চিম বোয়ালিয়া গ্রামের মোসলেম ব্যাপারীর বাড়ির সামনে পৌঁছলে সেলিম ব্যাপারীসহ ১০-১২ জন লোক হাতবোমা, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে পথরোধ করেন। তারা হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আব্দুল মান্নান হাওলাদার ও তার ভাতিজা মিরাজ হাওলাদারকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে তার সঙ্গে থাকা ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। ওই টাকা দিয়ে হামলাকারীরা সোমবার ভোররাত ৪টার দিকে ভূরিভোজ করেন। 

আহতদের ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাতে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় আল আমিন হাওলাদার বাদী হয়ে সেলিম ব্যাপারী (২৭), জসিম ব্যাপারী (৩৫), সফিক ব্যাপারী (৩৫), হায়দার ব্যাপারী (৩০), স্বপন ব্যাপারী (৩৩), দুলাল ব্যাপারী (৩৭), কাসেম ব্যাপারী (৫৩), আরিফ ব্যাপারী (৩০), শাহ আলম ব্যাপারী (৫৫) ও মিলন ব্যাপারীকে (২২) আসামি করে সোমবার রাতেই মুলাদী থানায় মামলা করেন। 

এ ব্যাপারে সেলিম ব্যাপারী ছিনতাইয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আব্দুল মান্নান হাওলাদার রাস্তার ওপর কুরবানির চামড়ার স্তূপ করেছেন। এতে পরিবেশে দুর্গন্ধ ছড়ানোয় তাকে চামড়া সরিয়ে নিতে বলায় তার ছেলেরা সোমবার দুপুরে স্থানীয় ২-৩ জনকে ধাওয়া করেছেন। সন্ধ্যায় ওই বিষয়টি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়েছেন এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতি করায় ব্যাপারী বাড়ির লোকদের নামে মিথ্যা মামলা করেছেন। এছাড়া রাতে ভূরিভোজ নয়, ব্যাপারী বাড়ির পারিবারিক মিলনমেলায় খাওয়া দাওয়া হয়েছে।

মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, দুজনকে মারধরের ঘটনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।