Image description

ময়মনসিংহে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম ওরফে মফিদুল মাস্টারের নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের হামলায় রানা মিয়া (২৮) নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও পাঁচজন।

 

 

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৫টার দিকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

রানা মিয়া একই এলাকার মৃত শরাফ উদ্দিনের ছেলে।

তিনি বিএনপির কর্মী বলে দাবি করেছেন তার স্বজনরা। 

 

নিহত রানার স্বজনরা জানান, গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে কাজ করে ধানের শীষে ভোট দিয়েছিলেন রানা ও বাড়ির লোকজন।

এরপর থেকে প্রতিবেশী জামায়াত নেতা মফিদুল মাস্টারের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল সোমবার মফিদুল মাস্টারের বাড়ির ছেলেরা ফুটবল খেলা শেষে রানার বাড়ির সামনের একটি দোকানে তরল পানীয় কিনতে আসেন।
এসময় তুচ্ছ কথার জেরে মফিদুল মাস্টারের বাড়ির লোকজন নির্বাচনী জেদ মিটাতে হুমকি দিয়ে চলে যান। এ ঘটনার পর রাতে আবারও মফিদুল মাস্টারের বাড়ির ছেলেরা রানাদের বাড়িতে হামলা করলে মফিদুল মাস্টার নিজে ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি মীমাংসা করে চলে যান।

 

কিন্তু আজ মঙ্গলবার বিকেলে মফিদুল মাস্টার অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন লোকজন নিয়ে এসে রানাদের বাড়িতে হামলা করেন। এ সময় মফিদুল মাস্টারের ছেলে মাহিন ছুরি দিয়ে রানার বুকের পাশে আঘাত করেন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়। 

আহতরা হলেন- আশাদ (৩৬), মোফাজ্জল (৩৫), শাহান (৪৫), মুনসুর আলী (৫০), শাকিল (৩০), দ্বীনি মিয়া (৩৫)। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রানাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রানার ভাই তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমার ভাইকে বিনা কারণে জামায়াত নেতা মফিদুল মাস্টারের ছেলে ছুরি দিয়ে বুকে আঘাত করে হত্যা করেছে।' এ সময় ভাইয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।