রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যায় তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে আদালতকে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. অহিদুজ্জামান।
মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে সাক্ষ্য দেন তিনি। এ দিন আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভিন বেগম ও বোন রাইসা আক্তারসহ ১৬ সাক্ষ্য দেন।
এর মধ্য দিয়ে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধি ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য বুধবার দিন ধার্য করেছেন আদালত।
গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন গ্রেপ্তার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। এর আগে গত ২৪ মে পুলিশ প্রতিবেদন আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠনের জন্য ১ জুন দিন ধার্য করা হয়েছিল।
মামলায় বলা হয়েছে, নিহত রামিসা রাজধানীর পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়। কিছুক্ষণ পর তাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। পরে একপর্যায়ে প্রতিবেশী একটি ফ্ল্যাটের সামনে তার একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় পরিবারের সদস্যদের।
এরপর দরজায় ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে সোহেল রানার শোয়ার ঘরে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমে একটি বালতির ভেতর তার মাথা পাওয়া যায় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলা দায়ের করেন নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। গ্রেপ্তারের পর ২০ মে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা।