Image description

ঘটনার পর সোমবার (১ জুন) রাত ৯টায় স্থানীয় বাসিন্দারা মাজারের মধ্যে নৌকা নামিয়ে শুরু করে উদ্ধার অভিযান। পরে ফায়ার সার্ভিস, র‌্যাব, পুলিশ, জেলা প্রশাসন উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত (এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) শিশুটির মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর আগে, রাত সাড়ে ৮ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

কুমিরে টেনে নিয়ে যাওয়া ফাতেমা আক্তার মাজারে ভবঘুরে হিসেবে থাকা এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে। এর বেশি পরিচয় জানাতে পারেনি মাজার সংশ্লিষ্টরা ও পুলিশ প্রশাসন।

প্রতক্ষদর্শীরা জানান, রাতে ওই ঘাটে অনেক লোকজন ছিল। মেয়েটি গোসলে নামলে তাকে কুমিরে টেনে নিয়ে যায়। মেয়েটি ও ঘাটে থাকা লোকজন চিৎকার-চেচামেচি করলেও, সাহস করে কেউ এগিয়ে আসেনি।

ঘাটের পাশে থাকা দোকানি বিনা বলেন, আমি দেখেছি বাচ্চাটা মহিলা ঘাটে গোসল করতে গিয়েছে। আমি পাশেই ছিলাম কিন্তু বুঝতে পারিনি পানির নিচে কুমির এসেছে। বাচ্চাটি এক সিড়ি নামতেই কুমিরে ওর মাজা ধরে কামড় দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় দুই হাত তুলে একবার চিৎকার দিয়েছিল। তারপরে আমি সেখানে যেতেই কুমিরে পানির নিচে নিয়ে চলে যায়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিদুল ইসলাম, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে আসেন। সঙ্গে হাজারো উৎসুক জনতা দিঘির পাড়ে ভীড় জমায়। বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় মাজার এলাকায়।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, খবর শুনে স্থানীয় অনেক মানুষ ভীড় করেছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শিশুটিকে না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে। এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। 

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য কয়েকটি টিম কাজ করছে। আর ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, মাজারে এ ধরনের ঘটনা মাজারের ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে ঘাটে ফেন্সিং করা হবে বলে জানান তিনি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বাগেরহাট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, কুমির যেহেতু হিংস্র প্রাণী, তাই পানিতে নামাটা ঝুঁকিপূর্ণ। আবার রাতের বেলা। তারপরও আমরা খোঁজাখুঁজি করছি। আর বাগেরহাটে কোনো ডুবুরি দল নেই। এটাও একটা অসুবিধা।

এর আগে, গত ৮ এপ্রিল দিঘির ঘাট থেকে কুমিরটি একটি কুকুরকে টেনে নিয়ে যায়। টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ক্লিপস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। তখন মাজারে কুমিরের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। তবে মাজারের শুরু থেকে কুমির থাকলেও, বর্তমানে মাজারে থাকা কুমিরটি খানজাহানের অবমুক্ত করা কুমিরের বংশধর না।

জানা যায়, খানজাহান আলী (রহ.) এই দিঘি খনন করে এক জোড়া কুমির ছেড়েছিলেন। পরে তাদের মধ্যে পুরুষটার নাম রাখেন কালা পাহাড় ও স্ত্রী কুমিরটার নাম ধলা পাহাড়। এরপর তাদের বংশধর কুমিরদের মধ্যে পুরুষকে ‘কালা পাহাড়’ আর স্ত্রী কুমিরকে ‘ধলা পাহাড়’ ডাকা হতো। তাদের সর্বশেষ বংশধরের মৃত্যু হয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে।

এর আগে, ২০০৫ সালে ভারত থেকে কয়েকটা কুমির এনে দিঘিতে ছাড়া হয়। কিন্তু কিছু কুমির মারা যায়। সবশেষ দুটি কুমির ছিল এই দিঘিতে। তার একটি কুমির ২০২৩ সালের অক্টোবরে মারা যায়। এর পর থেকে দিঘিতে একটি কুমির রয়েছে।