আজ ১ জুন, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার শহীদ বুদ্ধিজীবী খাদেম মতিয়র রহমানের ৫৫তম শাহাদতবার্ষিকী। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১-এর এই দিনে পীরগঞ্জ শহর থেকে তাকে ধরে নিয়ে পার্শ্ববর্তী রানীশংকৈল উপজেলার বৃহৎ বধ্যভূমি খুনিয়াদিঘিতে বেয়নেট খুঁচিয়ে ও ব্রাশফায়ার করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
খাাদেম মতিয়র রহমান পরিবার ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শহীদ খাদেম মতিয়র রহমান ১৯১০ সালে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ভেলাতৈড় (ভদ্রপাড়া) গ্রামে জম্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মসলেউদ্দিন।
খাদেম মতিয়র রহমান তৎকালীন দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমার রানীশংকৈল রামগঞ্জ হাই স্কুল থেকে এন্ট্রাস (এসএসসি) পাস করেন। পরে ঠাকুরগাঁও মহকুমার পীরগঞ্জ থানাধীন পীরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের একাধারে প্রেসিডেন্ট, পঞ্চায়েত ও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পেশায় তিনি হোমিও ডাক্তার হলেও সমাজ সংস্কার ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে তার অবদান ছিল অসামান্য।
মতিয়র রহমানের ছেলে পীরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মেহের এলাহী জানান, তার বাবা একজন প্রকৃত শহিদ বুদ্ধিজীবী।
পীরগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান জানান, মতিয়র পঞ্চায়ের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। তার নাম শহীদের তালিকায় থাকার কথা ছিল। নানা কারণে হয়নি। এখন আশা করছি, সংশ্লিষ্টরা এটি করবেন।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদার জানান, শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে তার মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।