রাজধানী ঢাকায় ঈদের ছুটির সময় ২৬ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত আলাদা আলাদা স্থান থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে একাধিক ঘটনায় গলায় ফাঁস, শ্বাসরোধ এবং পানিতে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পারিবারিক কলহ, আর্থিক সংকট ও ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত জটিলতার তথ্য পাওয়া গেছে।
যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল ঠাকুরবাড়ি এলাকার একটি বাসা থেকে ২৭ মে বিকেলে শ্রাবণী আক্তার পলি (২৮) নামে এক গৃহিণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে তিনি গলায় ফাঁস দেন।
২৬ মে রাত ৯টার দিকে দক্ষিণ বাড্ডার দারোগাবাড়ি এলাকার একটি বাসা থেকে মামুনুর রশিদ (৩৫) নামে এক চাকরিজীবীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পারিবারিক কলহকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ।
২৮ মে রামপুরার অগ্নিশিখা গলি থেকে আব্দুল্লাহ (২৪) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিকভাবে আর্থিক সংকট ও বেকারত্বকে আত্মহত্যার কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
ভাটারা এলাকার সোলমাইদ ব্যাপারীবাড়ি থেকে ২৯ মে পূর্ণিমা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহিণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় স্বামী শ্বাসরোধে হত্যা করে শিশু সন্তানসহ পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একই দিন ভাটারা, কামরাঙ্গীরচর, ডেমরা ও অন্যান্য এলাকায় আরও কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে রিকশাচালক এনামুল ওরফে সুমন (২৫), যুবক মনির গাজী (২৪) এবং ১৬ বছরের কিশোর শাকিল হোসেন রয়েছেন।
এছাড়া পান্থপথের বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স থেকে এক অজ্ঞাতনামা যুবক (২৭) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ফুটপাত থেকে এক ভবঘুরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ডেমরায় পানিতে পড়ে দুই বছরের শিশু অয়ন্তীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, সব মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাগুলো নিয়ে পৃথকভাবে তদন্ত চলছে।
শীর্ষনিউজ