২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্ব শুরুর আগে মাঠের বাইরের নানামুখী জটিলতায় পড়েছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় নিজেদের বিশ্বকাপ অনুশীলন ক্যাম্প (বেস ক্যাম্প) সরিয়ে নেওয়ার পর, টুর্নামেন্ট ভিসার বিষয়ে ফিফার কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে ইরান।
মাঠের বাইরে এমন কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও ক্যাম্প পরিবর্তনের ঝামেলার মাঝেই অবশ্য মাঠের লড়াইয়ে জয় পেয়েছে ইরান।
তুরস্কের আনাতোলিয়া শহরে অনুষ্ঠিত একটি বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে গাম্বিয়ার বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে তারা।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপে ইরানের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খেলার কথা রয়েছে। তবে গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে আক্রমণের পর থেকেই টুর্নামেন্টে দলটির অংশগ্রহণ নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মূলত কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই বেস ক্যাম্প সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে ইরান। লস অ্যাঞ্জেলেস এবং সিয়াটলে অনুষ্ঠিতব্য ‘গ্রুপ জি’-এর ম্যাচগুলোতে নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং মিশরের মুখোমুখি হতে এখন ইরান দলকে নিয়মিত সীমান্ত পারাপারের ছাড়পত্র নিতে হবে।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মেহদি মোহাম্মাদনবি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইতিপূর্বে ভিসার আবেদন করার পর এবার একটি নিশ্চিত উত্তরের জন্য তারা ফিফাকে চিঠি লিখেছেন।
মোহাম্মাদনবি বলেন, ‘আমরা ফিফাকে একটি ইমেইল পাঠিয়েছি এবং যত দ্রুত সম্ভব ফলাফল ঘোষণার অনুরোধ করেছি। তারা যেন সুনির্দিষ্টভাবে জানায় যে কোন দিন ভিসা ইস্যু করা হবে। কারণ আমাদের এখন মেক্সিকো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশেরই মাল্টিপল-এন্ট্রি (একাধিকবার যাতায়াতযোগ্য) ভিসা প্রয়োজন।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘সর্বশেষ আলোচনার ভিত্তিতে ফিফা আমাদের জানিয়েছে যে, এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়াটি সম্ভবত চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।’
মোহাম্মাদনবি জানান, টিজুয়ানার এই ক্যাম্পটির প্রস্তাব মূলত ফিফাই করেছিল এবং ইরান সেই ব্যবস্থাটি মেনে নেয়। তিনি বলেন, ‘ফিফাই এই ক্যাম্পের প্রস্তাব দিয়েছিল, তাই কী ঘটেছে সেটি ফিফারই বলা উচিত। যা-ই হোক, আমরা মেক্সিকোর তিজুয়ানা শহরের এই ক্যাম্পটি গ্রহণ করেছি এবং দল ভ্রমণের জন্য প্রস্তুত। আমার মনে হয় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দল সেখানে রওনা দেবে।’
ভিসা পেতে এমন বিলম্বের বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরাও বেশ অবাক হয়েছি এবং আশা করছি এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে। আমাদের জাতীয় দল এবং খেলোয়াড়দের পুরো মনোযোগ এখন কেবলই তাদের অনুশীলনের ওপর।’