Image description

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে দায়িত্ব পালনকালে নিহত বাংলাদেশের ছয় শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘দ্যাগ হ্যামারশোল্ড’ পদক দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। আগামী ৫ জুন সংস্থাটির সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সম্মান জানানো হবে।

 

শুক্রবার (২৯ মে) জাতিসংঘ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের সময় নিহত ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর দ্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক দেওয়া হবে।

 

সম্মাননা পাওয়া বাংলাদেশের ছয় শান্তিরক্ষী হলেন সৈনিক মো. জাহাঙ্গীর আলম, সৈনিক মো. সবুজ মিয়া, করপোরাল মো. মাসুদ রানা, সৈনিক মো. মোমিনুল ইসলাম, সৈনিক শামীম রেজা এবং সৈনিক সান্তো মণ্ডল। তাঁরা ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবেইয়ে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনীতে (ইউএনআইএসএফএ) দায়িত্ব পালনকালে ড্রোন হামলায় নিহত হন।

 

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে জাতিসংঘের অধীনে ৫০ হাজারের বেশি বেসামরিক, সামরিক ও পুলিশ সদস্য শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত।

 

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সদস্য সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২৭৭ জন নারীসহ চার হাজারের বেশি বাংলাদেশি সামরিক ও পুলিশ সদস্য আবেই, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, সাইপ্রাস, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো, লেবানন, লিবিয়া, দক্ষিণ সুদান ও পশ্চিম সাহারায় দায়িত্ব পালন করছেন।

 

এ বছরের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ইনভেস্ট ইন পিস’ বা ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’। জাতিসংঘের ভাষ্য, সীমিত সম্পদের মধ্যেও সংঘাত মোকাবিলা, বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে শান্তিরক্ষা মিশন এখনো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম।

 

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। জাতিসংঘের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব।

 

গুতেরেস আরও বলেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উত্তেজনার এই সময়ে শান্তিরক্ষা স্থিতিশীলতা ও আশা ফিরিয়ে আনার একটি পরীক্ষিত এবং ব্যয়-সাশ্রয়ী উপায়। তবে এর জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক রাজনৈতিক সমর্থন ও নির্ভরযোগ্য অর্থায়ন।