Image description

দেশের সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ শিক্ষক-কর্মচারীদের দেখভালের দায়িত্ব মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ওপর ন্যাস্ত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন এ সংস্থাটির মহাপরিচালকের চলতি দায়িত্ব পালন করছেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ১৬ ব্যাচের কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। গত ২৩ এপ্রিল তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক সোহেল বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের আহবায়কের দায়িত্বও পালন করছেন। সম্প্রতি শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, শিক্ষার মানোন্নয়নসহ নানা বিষয় নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে কথা বলছেন প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সিনিয়র রিপোর্টার শিহাব উদ্দিন।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: মাউশির পরিচালক থেকে মহাপরিচালক হওয়ার যে পদযাত্রা সে সম্পর্কে জানতে চাই; কোন পদটা আপনি বেশি উপভোগ করছেন?
ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল: আসলে পদটা উপভোগ কখন করা যায় যখন আপনি যথাযথভাবে ওই পদের দায়িত্ব কর্তব্যগুলো প্রতিপালন করতে পারেন; তখনই সেটা উপভোগ্য হয়। যখন আপনি দায়িত্ব প্রতিপালন করতে কষ্ট হয় অথবা যথাসময়ে কাজটি করতে পারেন না, তখনই আপনার জন্য আর উপভোগ্য থাকে না। আমার এখানে পদায়ন হয়েছে অল্প কদিন হলো।

আমি আমার আওতাধীন সকল উইং আমার দায়িত্ব কর্তব্য সব কিছু সম্পর্কে অবহিত হওয়ার চেষ্টা করছি। এখন পর্যন্ত আমি আমার দায়িত্ব কর্তব্য যেগুলো আছে, যা আছে তার সাথে  করার চেষ্টা করছি। আশা করছি আমি এই সকল দায়িত্ব এবং কর্তব্য সম্পর্কে অবহিত হয়ে যথাযথভাবে যথাযথভাবে কাজ করার মাধ্যমে আমার দায়িত্বগুলো আমি সঠিকভাবে পালন করতে চাই।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: স্কুল-কলেজে শিক্ষক সংকট, ল্যাব সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। এসব দীর্ঘদিনের সমস্যার টেকশই সমাধানে আপনার কোন পরিকল্পনা কী?
ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল: আসলে আমার পরিকল্পনার চেয়ে আমার পরামর্শটাই মনে হয় শ্রেয়। পরিকল্পনা যা কিছু অনুমোদন সেগুলি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সরকার করবে। আমার কাজ তাদেরকে শিক্ষার সার্বিক চিত্রগুলো অবহিত করা, পরামর্শ দেওয়া। সেক্ষেত্রে আমার যেটি অনুধাবন সেটি হচ্ছে, সারাদেশে যে পরিমাণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অবকাঠামো থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সকল কিছু মিলিয়ে এটি রেশনাল হওয়া উচিত। কারণ বাংলাদেশ একটি স্বল্প আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের পথে যাত্রা করছে।

তাদের সামর্থ্য সে পরিমাণে নেই। সেক্ষেত্রে প্রতিটি বিষয়ে যদি আনুপাতিক হারে এরিয়া ভিত্তিক স্থাপন হতো বা স্থাপিত হতো তাহলে বিষয়টা সহজ হতো। কিরকম? শিক্ষার্থীরা তাদের চাহিদা অনুপাতে শিক্ষক, ল্যাবরেটরি অন্যান্য সুবিধা পেত। আমি আশা প্রকাশ করছি নিশ্চয়ই বর্তমান সরকার এই বিষয়ে তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুসারে এগিয়ে যাবে এবং আমরা মানসম্মত শিক্ষা গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সমর্থ হব।’

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বের হয়ে বাস্তবমুখী শিক্ষা চালু করার বিষয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?
ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল: এ বিষয়ে আমাদের পরামর্শ আছে আর সেই পরামর্শের আলোকে মন্ত্রণালয় যদি সিদ্ধান্ত নেয় তখন নিশ্চয়ই আমরা সে অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা করব। আমরা বিশ্বাস করি শিক্ষার্থীদের উপর পরীক্ষা অথবা পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে তাদের শিক্ষাটাকে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো অনুসারে আনন্দদায়ক শিক্ষায় পরিণত করা উচিত। তাদেরকে কর্মমুখী শিক্ষা দেওয়া উচিত। যে শিক্ষার মাধ্যমে তারা নিজেদের কর্মজগতে প্রবেশ করতে পারবে। যেই শিক্ষার পর তারা হতাশায় ভুগবে না। তাদের নিজস্ব আর্নিংসে তারা সমর্থ হবে।

আমরা মনে করি বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে কর্মমুখী শিক্ষা। কর্মমুখী শিক্ষার সাথে জীবনমুখী শিক্ষা জীবনের জন্য কি প্রয়োজন আমার জীবনে টিকে থাকতে হলে সাস্টেইন করতে হলে কি ধরনের শিক্ষা প্রয়োজন সেটি সময়ের সাথে যুগের সাথে পরিবর্তন হতে পারে তা আমরা মনে করি। বর্তমান সরকার সেদিকেই এগুচ্ছে, তাদের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো চিন্তাভাবনাগুলো কর্মপরিকল্প কর্মপরিকল্পনাগুলো সেদিকে এগোচ্ছে। নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু প্রকল্প প্রস্তাবনা দিয়েছি আমরা।

আপনাকে যদি সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে হয় তাহলে মেধাবী শিক্ষক লাগবে। আর মেধাবী শিক্ষক চাইলে তার জন্য সুবিধাদি নিশ্চিত করতে হবে। যথাযোগ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষকতা পেশায় তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে হবে।

কিছু স্কিম নিয়েছি যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসাটা, ক্যাম্পাসকে আনন্দদায়ক করা যায় কীভাবে, কীভাবে ক্যাম্পাসমুখী করা যায়, এক্সট্রা কারিকুলারঅক্টিভিটিজের মাধ্যমে কীভাবে নিজেদের সুপ্ত প্রতিভাগুলো বিকাশ করা যায়, সুনাগরিক হিসেবে কীভাবে গড়ে তুলতে পারি সেগুলো নিয়ে কাজ করছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেন এই বিষয়গুলো থাকে, শিক্ষকদের মধ্যে যাতে সেই ক্যাপাসিটি বিল্ড আপ হয়, তারা যেন শিক্ষার্থী বান্ধব একটা পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারেন আমরা সেদিকে এগুচ্ছি।

আমরা আশা করছি, আপনাদের সকলের সহায়তায় সকলের পরামর্শে ইনশাআল্লাহ আমরা বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো অনুযায়ী মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুণগত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমরা বলি দক্ষ শিক্ষকের মাধ্যমে কাঙ্খিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সক্ষম হব।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: শিক্ষা খাতে দুর্নীতি, কোচিং নির্ভরতা ও প্রশ্নফাঁস নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ এখনও আছে। এ বিষয়ে মাউশির অবস্থান ও কার্যকর উদ্যোগ কী?
ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল: মাউশি সরকারের একটি অংশ। প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের চিন্তাভাবনা অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নেয় মাউশি সেই পলিসি বা সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করে থাকে। আমরা যতটুকু জানি বর্তমান সরকার নকল নামক যে একটি শব্দ আছে সেটি বিশ্বাস করতে চায় না। সে শব্দ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানবে না। সেইরকমভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাটাকে গড়ে তুলবো। সেইরকমভাবে আমরা পরীক্ষা ব্যবস্থাকে গড়ে তুলবো, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আমরা মনে করি শিক্ষা ব্যবস্থা তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমনভাবে পরিচালিত হবে তার পরীক্ষার জন্য বাড়তি কোন চিন্তা, বাড়তি কোন সংখ্যা, টেনশন কাজ করবে না। তারা আনন্দচিত্তে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটাও তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক হবে। আমরা এটাও মনে করি যে দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তুলতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সেজন্য বর্তমান সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। আমাদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও আমরা বেশ কিছু প্রকল্প এবং স্কিমে কম্পোনেন্ট অন্তর্ভুক্ত করেছি। আমরা বিশ্বাস করি নৈতিক শিক্ষাই হবে আগামী দিনের মানবিক শিক্ষা বোধের মূল ভিত্তি।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি আবেদন কবে শুরু হতে পারে, সম্ভাব্য পরিকল্পনা জানতে চাই।
ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল: শিক্ষকদের বদলির দাবির বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমরা কাজ করছি। বর্তমান সরকারও এ বিষয়ে আন্তরিক। আমরা সফটওয়্যার তৈরির কাজটি শেষ করে এনেছি। ঈদের পরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ডাটাবেজ কালেকশন করার মাধ্যমে আমরা বদলির প্রস্তুতি গ্রহণ করব। আশা করছি আগামী জুন মাসের মধ্যে আমাদের ডাটাবেজের প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। তারপরেই সরকারের নির্দেশ মোতাবেক আমরা বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি বিষয়টি চালু করতে পারব।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা প্রতি মাসেই দেরিতে বেতন পাচ্ছেন। এই বেতন দ্রুত দেওয়ার ক্ষেত্রে মাউশি কোনো উদ্যোগ নেবে কী?
ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল: এটি একটি বার্নিং ইস্যু। প্রায়ই কথা বলতে শুনি যে নির্ধারিত সময় শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছে না। আগে ছিল প্রতি মাসের ২৮ অথবা ২৯ তারিখের দিকে আমরা ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতার বিলের চিঠি পাঠাতাম মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব অনুমোদন হতে ৭ থেকে ১০ তারিখ হয়ে যেত।

আমি মাউশির ডিজি হিসেবে জয়েন করার পর ইতোমধ্যে ২০ তারিখের শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বেতন ভাতার প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছি। আমরা ৩০ তারিখের মধ্যে এজি অফিসের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে শিক্ষকদের বেতনের অর্থ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। যাতে এক তারিখ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংগুলোর মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা যেতে পারে।

কিন্তু এই বিষয়ে একটি সমস্যা সামনে এসেছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সাবমিটের নির্ধারিত যে সময় থাকে, সেই সময়ের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের তথ্যাবলী সাবমিট করতে পারে না। সেজন্য আমরা তাদের জন্য মানবিক হয়ে সময় বৃদ্ধি করি। এবার ঈদ বোনাস এবং এপ্রিল মাসের বেতন শিক্ষক-কর্মচারীরা পেয়েছেন। ঈদ বোনাসের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের যেদিন ছিল সেদিনও অনেক প্রতিষ্ঠান বিল সাবমিট করেনি।

তখন আমি একটা নোটিশ করেছি, একদিনের মধ্যে বিল সাবমিটের নির্দেশনা দিয়েছি। সেই নির্দেশনার প্রেক্ষিতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান পরদিন বিল সাবমিট করেছে। পরে আমরা আর দেরি করিনি। পরদিনই সেটাকে প্রসেস করে মন্ত্রণালয় প্রস্তাবনা পাঠিয়ে দিয়েছি এবং আপনারা জেনে থাকবেন ইতোমধ্যে সকলের অ্যাকাউন্টে ঈদ বোনাসের অর্থ চলে গেছে।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: শিক্ষাবিদ থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষই মনে করে থাকেন যে শিক্ষকদের বেতন সবচেয়ে বেশি হওয়া জরুরি। শিক্ষার উন্নয়ন করতে চাইলে এটি জরুরি। কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এমপিভুক্ত শিক্ষকদের বেতন আসলে অনেক কম। এই সামান্য অনুদানের সাথে তাদের চিকিৎসা ভাতা সহ অন্যান্য যে ভাতাগুলো রয়েছে সেগুলো খুবই সামান্য। শিক্ষকদের বেতন ভাতা বৃদ্ধি করতে আপনি উদ্যোগ নিবেন কী?
ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল: বর্তমান সরকারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক। আপনাকে যদি সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে হয় তাহলে মেধাবী শিক্ষক লাগবে। আর মেধাবী শিক্ষক চাইলে তার জন্য সুবিধাদি নিশ্চিত করতে হবে। যথাযোগ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষকতা পেশায় তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে হবে।

সেজন্য সুবিধা দরকার, মর্যাদা দরকার, সামাজিক এবং আর্থসামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি দরকার সেগুলোর দিকে অবশ্যই মনোযোগ দেয়া দরকার। সেক্ষেত্রে আমরা মনে করি শুধু বেসরকারি শিক্ষক নয় সকল পর্যায়ের শিক্ষকেরই একটি সামাজিক অবস্থান থাকা উচিত। তার আর্থসামাজিক অবস্থা যাতে এমন হয়, তাকে যেন অপরের মুখাপেক্ষ না হতে হয়। সে যাতে তার মর্যাদা নিয়ে কাজ করতে পারে। সে যাতে তার অবস্থানটুকু নিশ্চিত করে। নিজেদেরকে শিক্ষকতা পেশায় আরো অধিকতর মনোযোগী হতে পারে।

বেসরকারি শিক্ষক, সরকারি শিক্ষক, প্রাথমিক শিক্ষকদের বা অন্যান্য পর্যায়ের শিক্ষকদের মধ্যে দেখবেন হতাশা কাজ করে। কারণ তারা বলে আমরা তো বিশেষ করে যারা কম্পিটিটিভ পরীক্ষার মাধ্যমে আসে তারা বলে আমরা কম্পিটিটিভ পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেদেরকে যোগ্য প্রমাণ করে শিক্ষকতা পেশায় এসছি। তাহলে আমাদের যেই ডেডিকেশন থাকা উচিত সেই ডেডিকেশন দিতে হলে আমাদের সামাজিক অবস্থান আর্থিক অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে শিক্ষকদের জন্য অনেকগুলো নির্বাচনী অঙ্গীকার রেখেছেন। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নত দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে টিচারস স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামসহ নানাবিধ কর্মসূচি রেখেছেন।

আমরা বিশ্বাস করি আগামী দিনে শিক্ষকদের তাদের কোয়ালিটি বৃদ্ধি করে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যথাযোগ্য মর্যাদা সম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে গুণগত শিক্ষক শিক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা সক্ষম হব। আমাদের রাষ্ট্রের  সক্ষমতাটুকুও বিবেচনা করা দরকার। আমরা প্রয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কতটুকু হওয়া উচিত এই রাষ্ট্রের জন্য। শিক্ষার্থী শিক্ষক অনুপাদ কি হওয়া উচিত; অবকাঠামো কি কি থাকা উচিত;  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন আছে কিনা সেগুলো দেখতে হবে।

অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক অনেক বেশি; আবার অনেক জায়গায় শিক্ষার্থী বেশি, শিক্ষক কম। এই অনুপাতটা ঠিক করা গেলে সুষমভাবে  সুবিধা নিশ্চিত করতে পারবে। আমার মনে হয় আমরা সে ব্যাপারেও নিজেরা উদ্যোগী হয়ে সকলে মিলে সম্মিলিতভাবে যদি রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করি তাহলে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: মাউশিতে অনেক মহাপরিচালক আসে। আপনি কোনো ল্যান্ডমার্ক রেখে যেতে চান কি না, যেন আপনি অবসরে যাওয়ার পরও মানুষ আপনাকে মনে রাখে।
ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল: এটি শুধু আমার বেলায় না প্রতিটি মানুষের বেলায় সে তার কর্মজীবনে এমন কিছু করতে চায় যেন মানুষ তাকে মনে রাখে। এটি আসলে অন্যায় চাওয়া নয়, আমি আমার অবস্থান থেকে কিছু করতে চাই শিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষকদের জন্য এবং গুণগত মানসম্মান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করতে চাই। শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত অংশীজনদের সাথে পরামর্শ করে তাদের ভাবনাগুলো, আমাদের ভাবনাগুলো আলোচনা করতে চাই।

সেখান থেকে যেটি আমাদের জন্য সর্বোত্তম বা যুগোপযোগী অথবা বাস্তবসম্মত সেই পদক্ষেপগুলির মাধ্যমে আমরা শিক্ষাকে এমন একটি উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই, যাতে আমরা বা আমাদের যে শিক্ষা ব্যবস্থা সেটি বৈশ্বিক মানদন্ডে একটি স্ট্যান্ডার্ডে থাকে। আমাদের ইচ্ছা আছে কারিকুলাম থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা, ক্লাসরুম ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থী-শিক্ষক অভিভাবক যে আন্তঃসম্পর্ক এবং সকল বিষয়ে আমরা একটা হোল স্কুল এপ্রোচ নিয়ে কাজ করা এবং যার মাধ্যমে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক পরিমন্ডল তাদের অবস্থানগুলো তুলে ধরতে পারে, এখান থেকে আগামী দিনের হিউম্যান রিসোর্সেস তৈরি করতে পারে।

এছাড়াও যদি মনে করেন মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এই অবস্থান থেকে বলতে চাই, আমরা প্রতিটি সেবাগ্রহীতার সেবাটুকু যথাসময় নিশ্চিত করতে চাই। আমরা চাই তারা হ্যাসেল ফ্রি অবস্থায় যার যার সেবাটুকু নিয়ে এখান থেকে ফিরবেন। তারা এখান থেকে হাসি মুখে ফিরবেন। সব কাজ হয়তো সবার জন্য করা সম্ভব না। কারণ নিয়মের মধ্য থেকে আমাদের করতে হবে। কিন্তু উনি যাতে বলতে পারেন আমি ওখানে গিয়েছিলাম আমার কাজটি হয়নি কিন্তু উনারা আমার সাথে খুব ভালো আচরণ করেছেন। আমরা চাই শিক্ষা অধিদপ্তর সকলের জন্য, যারা সেবাগ্রহীতা তাদের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ হিসেবে বিবেচিত হোক।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার সময়ের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকেও ধন্যবাদ।