Image description

উত্তর গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নামমাত্র ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরাইল প্রায় প্রতিদিনই এই আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার গভীর রাতে গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে চালানো এই হামলায় আরও ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

আল জাজিরা জানায়, ইসরাইলের পরবর্তীতে ফিলিস্তিনিরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

হামলার সময় বেশ কয়েকটি শিশু কাছাকাছি একটি পার্কে খেলছিল। ইসরাইলি হামলায় প্রাণ হারানোর ভয়ে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের নিয়ে ঘর বা তাঁবু ছেড়ে বের হতে চাইছেন না।
এই বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই গাজায় হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রধান মোহাম্মদ ওদেহ-এর জানাজায় শত শত ফিলিস্তিনি অংশ নিয়েছিলেন। মঙ্গলবার ইসরাইলি এক হামলায় তিনি নিহত হন।

ইসরাইল হামাসের উচ্চপদস্থ নেতাদের অবশিষ্ট অংশকে নির্মূল করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। গাজা সিটিতে চালানো সেই হামলায় ওদেহের স্ত্রী ও ছেলেও নিহত হন।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার সময় ওদেহ হামাসের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ছিলেন। গত সপ্তাহে ইসরাইল তার পূর্বসূরি ইজ আল-দিন আল-হাদ্দাদকে হত্যার কয়েকদিন পরই তাকে হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

ওদেহের এক আত্মীয় আবু আল-আব্দ ওদেহ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, উপত্যকার পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়।

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ থেমে গেছে– এই কথাগুলো সবই মিথ্যা ও অর্থহীন। ইহুদিবাদী দখলদারদের জন্য হয়তো এটি কার্যকর, কিন্তু ফিলিস্তিনি জনগণ ও গাজাবাসীর জন্য যুদ্ধের কোনো বিরাম নেই বা জীবনযাত্রার পরিস্থিতিরও কোনো উন্নতি হয়নি। বাস্তবে আমরা এর কোনো প্রতিফলন দেখছি না।’

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া কথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ ইসরাইল ৩,০০০ বারেরও বেশি লঙ্ঘন করেছে।

ইসরাইল ও হামাস– উভয়পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনায় আশঙ্কা বাড়ছে, তারা আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। ইসরাইল বলছে, হামাসের অস্ত্র ত্যাগ করতে অস্বীকার করা একটি বড় বাধা। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটি বলছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং এই অঞ্চলে মানবিক ত্রাণ প্রবেশে বাধার কারণেই আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

বুধবার এক্সে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী যে পরিমাণ ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের কথা ছিল, ইসরাইল তার সামান্য অংশই প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে।

মিডিয়া অফিস আরও জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত, অর্থাৎ গত ২২৭ দিনে ইসরাইলি দখলদার বাহিনী এই চুক্তির ৩,০০৫টি গুরুতর লঙ্ঘন করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মানবিক ও ত্রাণ পরিস্থিতির ক্ষেত্রে গাজা উপত্যকায় আসার কথা ছিল ১,৩৫,৬০০টি ট্রাক, কিন্তু সেখানে প্রবেশ করেছে মাত্র ৪৯,৯৭৩টি। এর মানে হলো, ইসরাইলের মেনে চলার হার ৩৬ শতাংশেরও কম। সূত্র: আল জাজিরা

শীর্ষনিউজ