Image description

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বর্তমানে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে। কিন্তু এসব আসনে জনগণ সরাসরি ভোট দিতে পারেন না। জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো যে সংখ্যক সাধারণ আসনে জয় পায়, তার অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। এরপর দলগুলো নিজেদের মনোনীত নারী প্রার্থীদের সংসদ সদস্য হিসেবে পাঠায়। অর্থাৎ, একজন নারী সংরক্ষিত আসনের এমপি হতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোট নয়, বরং দলীয় সিদ্ধান্তই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়।

এই ব্যবস্থা চালু হয়েছিল সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার যুক্তিতে। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ সীমিত ছিল। রাজনৈতিক দলগুলোও সাধারণ আসনে খুব কমসংখ্যক নারীকে মনোনয়ন দিত। ফলে সংসদে নারীদের উপস্থিতি বাড়াতে সংরক্ষিত আসনের ধারণা সামনে আনা হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ ব্যবস্থাকে ঘিরে বিতর্কও তীব্র হয়েছে।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় বহু বছর ধরেই সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোট হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে নারীরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে জাতীয় সংসদে একই ব্যবস্থা চালু না হওয়াকে অনেকে রাজনৈতিক অনাগ্রহ ও দলীয় নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে দেখছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি ভোট না হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব। বর্তমান ব্যবস্থায় দলীয় প্রধানরা নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের সংসদে পাঠানোর সুযোগ পান। ফলে সংরক্ষিত নারী আসন অনেক ক্ষেত্রেই দলীয় আনুগত্যের পুরস্কার, রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা কিংবা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সরাসরি নির্বাচন চালু হলে এই নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই কমে যাবে— এ কারণেই বড় রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে দৃশ্যমান আগ্রহ দেখায় না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এ ছাড়া রয়েছে সাংবিধানিক ও কাঠামোগত জটিলতা। বর্তমান সংবিধানে নারী সংরক্ষিত আসন বণ্টনের যে পদ্ধতি নির্ধারিত আছে, তা পরিবর্তন করতে হলে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি সরাসরি ভোট চালু করতে হলে নতুন নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ, আসন পুনর্বিন্যাস এবং আলাদা নির্বাচনী কাঠামো তৈরি করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের জন্যও এটি হবে বড় ধরনের প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ।

রাজনৈতিক দলগুলোর একটি অংশ আবার যুক্তি দিচ্ছে, বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতি এখনও অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সংঘাতপূর্ণ। তাদের মতে, সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে গেলে নারীদের অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক সক্ষমতার প্রশ্ন বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদিও নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই যুক্তি বাস্তবতার চেয়ে রাজনৈতিক অজুহাত বেশি। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বহু নারী সরাসরি ভোটে জয়ী হয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো— রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ আসনে নারীদের মনোনয়ন দিতে এত অনাগ্রহী কেন? বিভিন্ন নির্বাচনে দেখা গেছে, বড় দলগুলো সীমিতসংখ্যক নারী প্রার্থীকে সাধারণ আসনে মনোনয়ন দেয়। ফলে নারীদের জাতীয় পর্যায়ে সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার সুযোগও সীমিত থেকে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে নারীদের আলাদা কাঠামোয় রাখা হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ আসনেও পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এতে নারী নেতৃত্বের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

জুলাই সনদে কী প্রস্তাব ছিল, দলগুলোর অবস্থান কী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়, সেখানে নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও সংস্কার কমিশনের আলোচনায় ‘জুলাই সনদ’-এ নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিভিন্ন প্রস্তাব যুক্ত করা হয়। বিশেষ করে সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোটের বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে আসে।

সনদ প্রণয়নের আলোচনায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন পক্ষের একটি বড় অংশ মত দেয়, নারীদের প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য শুধু মনোনয়ননির্ভর ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। বরং জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নারী প্রতিনিধিদের সংসদে আসার সুযোগ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকে সাধারণ আসনেও নির্দিষ্ট হারে নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিতে বাধ্য করার প্রস্তাব উঠে আসে।

জুলাই সনদের ২১ নম্বর ধারায় জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব ধাপে ধাপে ১০০ আসনে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। আর ২২ নম্বর ধারায় এ বিষয়ে পদ্ধতিগত সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, বিদ্যমান সংরক্ষিত ৫০টি আসন বহাল রেখে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৫(৩)-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ স্বাক্ষরের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোকে ৩০০ সংসদীয় আসনের অন্তত ৫ শতাংশে নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে। পরবর্তী নির্বাচনে এই হার বাড়িয়ে ন্যূনতম ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরির প্রক্রিয়ায় নারী আসনের বিষয়টি ছিল অন্যতম আলোচিত ইস্যু। গেল বছরের ৩১ জুলাই জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের মৌলিক ১৯টি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছানো গেলেও ১০টি বিষয়ে বিভিন্ন দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ এসেছে। এর মধ্যে নারী আসন বৃদ্ধির প্রশ্নেই সবচেয়ে বেশি আপত্তি বা ভিন্নমত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংবিধান সংস্কার কমিশন সংসদে ১০০ নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের প্রস্তাব দেয়। অন্যদিকে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে ১০০ নারী আসনে সরাসরি ভোটের সুপারিশ করে।

ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থানেও স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা যায়। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে ১০০ নারী আসনে সরাসরি ভোটের প্রস্তাব দেয়। একইভাবে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের পক্ষে মত দেয়। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী ধারার দলগুলো ১০০ নারী আসনে নির্বাচন চাইলেও তা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক বা পিআর পদ্ধতিতে করার শর্ত দেয়। জামায়াতের মতে, সরাসরি ভোটের আলোচনা হতে পারে, তবে তা অবশ্যই পিআর পদ্ধতির আওতায় হতে হবে।

বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৫০ থেকে ১০০- তে উন্নীত করার বিষয়ে একমত হলেও আপাতত সরাসরি ভোটের পক্ষে মত দেয়নি। দলটি বিদ্যমান দলীয় মনোনয়নভিত্তিক পদ্ধতি বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিএনপির মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে এখনই সরাসরি ভোট চালুর সময় হয়নি।

জনরায় ছাড়া প্রতিনিধিত্ব দুর্বল

নারী অধিকারকর্মী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও নির্বাচন বিশ্লেষকদের বড় অংশ মনে করেন, বর্তমান ব্যবস্থায় নারীদের প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন হচ্ছে না। তাদের মতে, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় সংরক্ষিত নারী এমপিদের অনেক সময় জনগণের চেয়ে দলীয় নেতৃত্বের কাছে বেশি দায়বদ্ধ থাকতে হয়। এতে সংসদে স্বাধীন রাজনৈতিক ভূমিকা সীমিত হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রয়োজন এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। কারণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় নারীরা এখনো সমান প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাতে পারেননি। তবে বর্তমান পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তে সরাসরি ভোটভিত্তিক কাঠামো তৈরি করা জরুরি।

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষক মো. রাফিজ খান বলেছেন, ‘রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ মসৃণ করার পথে সংরক্ষিত আসন ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। বরং সিলেকশনের মাধ্যমে সংসদ সদস্য ঠিক করার বর্তমান পদ্ধতি নারীদের আরও পরনির্ভরশীল করে তুলছে এবং পরিবারতন্ত্রের ধারাবাহিকতাকে শক্তিশালী করছে।’

তার মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় কোটাভিত্তিক নয়, বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাজনীতির পরিবেশ তৈরি হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বললেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনে জনগণের সরাসরি ভোটের ব্যবস্থা চালু হলে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হবে, নতুন নারী নেতৃত্ব উঠে আসবে এবং আরও বেশি নারী রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণে উৎসাহিত হবেন।’

নির্বাচনের পক্ষে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিরাও

সংরক্ষিত নারী আসনের অনেক সংসদ সদস্যও সরাসরি নির্বাচনের পক্ষে মত দিচ্ছেন। বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য মানসুরা আক্তার আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘নীতিগতভাবে সংরক্ষিত নারী আসনের বেশিরভাগ প্রতিনিধিই সরাসরি নির্বাচনের পক্ষে। কারণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটই প্রতিনিধিত্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি। তবে বাস্তবতা হলো, আমাদের দেশে এখনো পর্যাপ্ত নারী রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি হয়নি।’

তার মতে, একজন নারী রাজনীতিবিদকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পাশাপাশি চরিত্রহনন ও সামাজিক হেনস্তারও শিকার হতে হয়। ফলে অনেক নারী রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান। তিনি সংরক্ষিত আসনকে নারীদের জন্য একটি ‘প্রস্তুতির জায়গা’ হিসেবে দেখছেন।

‘আইনগতভাবে সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী এমপির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। পার্থক্য তৈরি হয় কাজের মাধ্যমে’— যোগ করেন মানসুরা।

এনসিপি মনোনীত সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুমের ভাষ্য, ‘জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসাটা অনেক বেশি সম্মানের। আমাদের দলের পক্ষ থেকেও সংরক্ষিত নারী আসন ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছিল। আমরা চাই, নির্দিষ্ট সংখ্যক আসনে নারীরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসুক।’

তার মতে, সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পেছনে জনগণের স্পষ্ট ম্যান্ডেট থাকে, যা রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়।

একই ধরনের মত দিয়েছেন জামায়াত মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মারদিয়া মমতাজ। তিনি বলেছেন, ‘সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে নারী প্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা, গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক মর্যাদা—সবকিছুই বাড়বে। বর্তমানে সংরক্ষিত আসনের সদস্যরা অনেক সময় পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পান না।’

তিনি মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে শুধু মনোনয়ননির্ভর সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা কার্যকর সমাধান নয়।

সংরক্ষিত আসনে বিএনপি মনোনীত আরেক সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি আগামীর সময়কে বললেন, ‘জনরায় নিয়ে সংসদে আসাটা নিঃসন্দেহে অনেক বেশি সম্মানের। জনগণের সরাসরি সমর্থন নারীদের রাজনীতিতে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় শক্তি ও আত্মবিশ্বাস যোগায়।’

তার মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা এবং পেশিশক্তি ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।

সংরক্ষিত নারী আসন এক ধরনের অপমানজনক প্রথা

সংরক্ষিত নারী আসনসংখ্যা বাড়ানো এবং সেসব আসনে সরাসরি নির্বাচনব্যবস্থা চালুর জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে নারী সংগঠনগুলো। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এ নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা করলেও এ বিষয়ে একমত হতে পারেনি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেমের মন্তব্য, সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে সমান অধিকার, সমমর্যাদা ও দায়িত্বের সঙ্গে ভূমিকা পালন করতে বাংলাদেশের নারীরা এখন প্রস্তুত। সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়ে এলে গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী হবে, যা নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে আরও বিস্তৃত ও অর্থবহ করে তুলবে।

এনসিপি নেত্রী সামান্তা শারমিন আরও কঠোর ভাষায় বর্তমান ব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসন এক ধরনের অপমানজনক প্রথা। আমাদের পুরো রাজনৈতিক কাঠামোতেই পরিবর্তন প্রয়োজন, যাতে নারী-পুরুষভিত্তিক কোটানির্ভর প্রতিনিধিত্বের দরকার না হয়।’

তার মতে, এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠতে হবে, যেখানে একজন নারী স্বাভাবিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে পারবেন।

তিনি বলেছেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনকে আমি এক ধরনের অ্যাফারমেটিভ অ্যাকশন হিসেবে দেখি, কিন্তু একই সঙ্গে এটিকে রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি কালো অধ্যায়ও মনে করি। যতদিন নারীরা সমান সুযোগ না পাচ্ছেন, ততদিন হয়তো এই ব্যবস্থা থাকবে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি সরাসরি নির্বাচনের পক্ষেই।’

এদিকে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনা বাড়ছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের সংস্থা ইউএন উইমেন (UN Women) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছে, কীভাবে জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়ানো যায়।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিদের উপস্থিতি কম থাকার কারণ এবং তা বাড়ানোর সম্ভাব্য উপায় নিয়ে ইউএন উইমেন আলোচনা করেছে।

তিনি জানান, বর্তমানে সংসদে সাতজন নারী সদস্য রয়েছেন। তবে আরও অনেক নারী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। ভোটার তালিকায় নারী-পুরুষ ব্যবধান কমিয়ে আনার কাজও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।