Image description

কোরবানির ঈদের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। শেষ দিনে হাটে ক্রেতাদের ভিড় আর চড়া দাম আশা করলেও, রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে ক্রেতার সংকট দেখা গেছে।

লোকসানে অনেকে সস্তায় বিক্রি করে দিচ্ছেন কোরবানির পশু।

 

বুধবার (২৭ মে) রাজধানীর কচুক্ষেত হাট ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে ক্রেতা খুব কম।

 

বিক্রেতারা জানান, দুই-চারজন ক্রেতা আসলেও অর্ধেক দামও বলছেন না।

শেরপুরের নালিতাবাড়ী থেকে ৫টি গরু নিয়ে এসেছেন বেপারি সিরাজ মিয়া।

তিনি বলেন, ৪টি গরু কেনা দামে বিক্রি করলেও ১টি গরুর অর্ধেক দামও বলছেন না ক্রেতারা।

 

হতাশ সিরাজ বলেন, অনেক আশা নিয়ে এসেছিলাম।

যে দামে গরু বিক্রি করলাম, আমার এলাকায়ও যদি এটি বিক্রি করতাম, তাও দু’টাকা লাভ করতে পারতাম।

 

যশোর থেকে ১২টি গরু নিয়ে আসা মনিরুল ইসলাম বলেন, তিনি বহু বছর ধরে এই হাটে আসেন। এবারের মতো এত খারাপ সময় আর কখনো আসেনি। তিনি মাত্র ৫টি গরু বিক্রি করতে পেরেছেন। এখনো ৭টি গরু রয়ে গেছে। মনিরুল বলেন, ক্রেতারা যে দাম বলছেন, তাতে লাভ তো দূরের কথা, চালানই থাকছে না।

৫৫ হাজার টাকায় গরু কিনে খুশি শেওড়াপাড়া থেকে হাটে আসা জোবায়ের হোসেন। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, গতকাল এই গরু ৮০ হাজার টাকায় কিনতে পারিনি। আজ সেটা তিনি ৫৫ হাজার টাকায় কিনেছেন। দাম অনেক পড়ে গিয়েছে। মধ্যরাতে আরও দাম কমবে বলেও মনে করেন তিনি।

শুধু কচুক্ষেত নয়, রাজধানীর গাবতলী, আফতাবনগর এবং বসিলাসহ প্রধান প্রধান পশুর হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, হাটে এখনো অনেক গরু-ছাগল অবিক্রীত রয়ে গেছে। বিক্রেতারা রাত জেগে অপেক্ষা করলেও ক্রেতাদের তেমন সাড়া মিলছে না। দু-একজন ক্রেতা হাটে এলেও তারা অত্যন্ত কম দাম হাঁকাচ্ছেন।

এদিকে ঈদের আগের রাত যত গড়াচ্ছে, বিক্রেতাদের উদ্বেগ ততই বাড়ছে। অনেকেই ঢাকার হাট থেকে অবিক্রীত পশু আবার ট্রাকে করে গ্রামে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শেষ মুহূর্তের এই বাজার বিপর্যয় দেশের ডেইরি খাত এবং প্রান্তিক খামারিদের জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।