সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে বুধবার (২৭ মে) দেশের বিভিন্ন জেলার অনেক মানুষ আগাম পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন। লক্ষ্মীপুর, ধামরাই, মাদারীপুর, চাঁদপুর, সাতক্ষীরা, জামালপুর, নওগাঁ, বগুড়া ও ঝালকাঠিসহ বিভিন্ন এলাকায় পৃথকভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য।
লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ ও রায়পুর উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করেন। সকাল ৭টায় রামগঞ্জের জাহাঙ্গীর টাওয়ারস্থ খানকায়ে মাদানিয়া কাসেমিয়া রামগঞ্জ শাখায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মোহাম্মদ রুহুল আমিন। স্থানীয়রা জানান, মাওলানা ইসহাক (রহ.)-এর অনুসারীরা দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে এ নিয়মে ঈদ পালন করে আসছেন।
ধামরাই
ঢাকার ধামরাইয়ে শরীফবাগ এলাকায় একটি বাড়িতে সকাল ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী-পুরুষসহ প্রায় ৫০ জন অংশ নেন। ইমামতি করেন মাওলানা আব্দুল গফুর সিরাজী। আয়োজকরা জানান, পাঁচ বছর ধরে তারা স্থানীয়ভাবে ঈদের নামাজ আদায় করছেন।
মাদারীপুর
মাদারীপুরের অন্তত ৪০ গ্রামের মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগেই ঈদ উদযাপন করেন। সদর উপজেলার চর কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সকাল ৯টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন হাজারো মুসল্লি। সুরেশ্বর দরবার শরীফের অনুসারীরা প্রায় ২০০ বছর ধরে এভাবে ঈদ পালন করে আসছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
চাঁদপুর
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ ও মতলবসহ অন্তত ৪০ গ্রামের মানুষ সাদ্রা দরবার শরীফের অনুসরণে আগাম ঈদ পালন করেন। সকাল সাড়ে ৮টায় সাদ্রা দরবার শরীফে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানান, ১৯২৮ সাল থেকে এ ধারা চলে আসছে।
সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরার সদর উপজেলার ভাদড়া বাউখোলা এলাকায় আহলে হাদিসের একটি অংশের উদ্যোগে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে অন্তত ২৫ গ্রামের মুসল্লিরা অংশ নেন। গত এক যুগ ধরে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করছেন।
জামালপুর
জামালপুরের সরিষাবাড়ী, ইসলামপুর ও মাদারগঞ্জ উপজেলার অন্তত ১৬টি গ্রামে পৃথকভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বৃষ্টির কারণে কোথাও বাড়িতে, কোথাও মসজিদে নামাজ আদায় করা হয়। নামাজ শেষে দেশ-জাতির শান্তি কামনায় দোয়া করা হয়।
নওগাঁ
নওগাঁর পত্নীতলায় নজিপুর পৌরসভার কলনিপাড়া এলাকায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায়। এতে নওগাঁ ও পার্শ্ববর্তী জেলার মুসল্লিরাও অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে তারা এভাবে ঈদ পালন করছেন।
বগুড়া
বগুড়ার গাবতলী, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার কয়েকটি এলাকায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়। গাবতলীর রেলস্টেশন-সংলগ্ন মসজিদে অর্ধশতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। স্থানীয়রা জানান, এটি তাদের চতুর্থবারের মতো আগাম ঈদ পালন।
ঝালকাঠি
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ডহরশংকর গ্রামে প্রায় ৫০টির বেশি পরিবার ঈদ উদযাপন করেন। দারুস সুন্নাহ জামে মসজিদের ঈদগাহে সকাল ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৩ সাল থেকে তারা এভাবে ঈদ পালন করছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
সব জায়গাতেই নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন, শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং কোরবানির প্রস্তুতি নেন।
