ইসলাম ধর্মের দ্বিতীয় প্রধান আনন্দ উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (২৬ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী এবং মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান এ শুভেচ্ছা জানান।
তারা বলেন, ঈদুল আজহা কেবল পশু কোরবানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আত্মত্যাগ, তাকওয়া এবং মহান আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের এক অনন্য শিক্ষা বহন করে। বাহ্যিক কোরবানির পাশাপাশি মানুষের অন্তরের পশুত্ব, হিংসা-বিদ্বেষ ও অহংকারকেও কোরবানি দিয়ে মহান নবী পিতা-পুত্র হজরত ইবরাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাঈল (আ.)-এর মহান চেতনায় নিজেদের আলোকিত করতে হবে।
হেফাজতের শীর্ষ দুই নেতা বলেন, ঈদুল আজহা সমাজে সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা ও দানশীলতার মহান আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে। বিগত দীর্ঘ ১৬ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের নিপীড়ন-নির্যাতনের পর দেশের মানুষ এবার দ্বিতীয়বারের মতো মুক্ত ও নির্ভীক পরিবেশে ঈদের আনন্দ উদযাপনের সুযোগ পাচ্ছে—এটি জাতির জন্য স্বস্তির বিষয়।
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট অপশক্তির নির্মম নির্যাতনে শাপলা চত্বরে শাহাদাতবরণকারী নবীপ্রেমিকগণ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত ও আহত সকলকে আমরা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। একই সঙ্গে তাদের পরিবার-পরিজনের প্রতিও গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা কামনা করি, শহীদ পরিবারগুলোর ঘরেও ঈদের নির্মল আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক। পাশাপাশি সরকারের প্রতি হেফাজতের ইসলামের নেতাদ্বয় আহ্বান জানান, শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে তাদের কাছে যেন ঈদের শুভেচ্ছা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়া হয়।
বার্তায় আরও বলা হয়, সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষ যেন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয় এবং কোরবানির গোশতে অংশীদার হতে পারে, সে জন্য সামর্থ্যবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বানও জানান তারা।
শুভেচ্ছা বার্তার শেষে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং ঈদযাত্রায় সড়ক ও ঘরবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ তৎপরতা কামনা করেন হেফাজতের এই শীর্ষ নেতৃদ্বয়।