২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে হাটছে সরকার। এজন্য আসন্ন বাজেটে অন্তত ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই বেতন কাঠামোয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কী ধরনের সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। তবে বড় সুখবর পাচ্ছেন তারাও। পে স্কেলে তাদের বেতন-ভাতাও বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বা বেসিকের ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বেসিকের শতভাগ বেতন বৃদ্ধির গুঞ্জনও আছে। একইভাবে এমপিওভুক্ত পৌনে ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য এ পে স্কেলে বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা সামনে এসেছে।
নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন বলে শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সুত্র জানিয়েছে। পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, চতুর্থ গ্রেডের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষদের ৫০ হাজার টাকার মূল বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে হতে পারে ৭৫ হাজার টাকা। ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকর ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার স্থলে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকা পাবেন। সপ্তম গ্রেডের উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের বেতন ২৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা হতে পারে।
নবম গ্রেডের প্রভাষকরা পান ২২ হাজার টাকা। তাদের বেতন বেড়ে ৩৩ হাজার এবং দশম গ্রেডের বিএডধারী সহকারী শিক্ষকদের ১৬ হাজা টাকা থেকে ২৪ হাজার টাকা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯তম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক- কর্মচারীদের জন্য দুই ধরনের হিসাব সামনে এসেছে। একটিতে ৫০ শতাংশ এবং অন্যটিতে ১০০ শতাংশ বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।
জানা গেছে, পুরো নতুন বেতন কাঠামো একসঙ্গে কার্যকর না করে তা তিনটি অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী জুলাই মাস থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেসিক বেতনের অর্ধেক অংশ পেতে শুরু করবেন। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি অর্ধেক বেসিক কার্যকর করা হবে। এরপর ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরে নতুন পে-স্কেলের আওতায় নির্ধারিত বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা ধাপে ধাপে চালু করা হবে।
১১তম গ্রেডের বিএডবিহীন সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৫০ শতাংশ বাড়লে হতে পারে ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা। আর শতভাগ হলে তা ২৫ হাজার টাকা হতে পারে। ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারী বা হিসাব সহকারী কিংবা কম্পিউটার অপারেটরদের ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে হবে ১৩ হাজার ৯৫০ টাকা। আর দ্বিগুণ হলে ১৮ হাজার ৬০০ টাকা পাবেন তারা।
১৮তম গ্রেডের ল্যাব সহকারীদের বেতন ৮ হাজার ৮০০ টাকার স্থলে ১৩ হাজার ২০০ টাকা হতে পারে। আর শতভাগ বাড়লে হবে ১৭ হাজার ৬০০ টাকা। ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক, নৈশপ্রহরী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়ারা ৮ হাজার ২৫০ টাকার স্থলে ৫০ শতাংশে ১২ হাজার ৩৭৫ টাকা কিংবা শতভাগ হলে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা পাবেন।
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পে স্কেলে কী ধরনের সুবিধা পাবেন, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে তারা অবশ্যই পে স্কেলের অন্তর্ভুক্ত হবেন বলে মনে করেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজি। তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় থাকায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা অবশ্যই নবম জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত হবে।’
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে এমপিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে ২৬ হাজার ৯৩টি। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী আছেন ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৮৯৮ জন।
আগামী ৭ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। এদিন বেলা ৩টায় রাষ্ট্রপতির আহবানে জাতীয় সংসদ ভবনে এ অধিবেশন শুরু হবে।
এরপর আগামী ১১ জুন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সংসদে পেশ করবেন। সে দিনই পে স্কেলে বরাদ্দের বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য জানা যাবে।