চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসী মো. ইয়াসিনসহ এখানে যেই সন্ত্রাসীরা বসবাস করে তাদের এখানে একটি বড় ধরনের স্বার্থ আছে। তাদের যখন বিশাল সাম্রাজ্য হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে শেষ মুহূর্তে তারা একটু ঝাঁকুনি দিল।
এর আগে জঙ্গল সলিমপুরে গভীর রাতে সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা ও গুলি চালায়। এ সময় তারা র্যাবের ক্যাম্প ও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় ক্যাম্পের দেয়ালসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
সন্ত্রাসীদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হামলার ঘটনা ঘটানোর পরে যেন কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে আসতে না পারে সেজন্য রাস্তার চার স্থানে কেটে ফেলা হয়। যার কারণে সেখানে বিশাল বিশাল গর্ত করা হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) রাত ১টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে।
র্যাবের দাবি, ‘সন্ত্রাসী’ ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা এ হামলার সঙ্গে জড়িত। র্যাব জানিয়েছে, রাস্তা কেটে দেওয়াসহ নানা বাধার মুখে পড়েও গভীর রাতে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
সীতাকুণ্ড থানা সূত্রে জানা যায়, অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা হয়েছে পাহাড় কাটার সরঞ্জামসহ সাতটি গাড়ি। গ্রেপ্তার করা হয়েছে চার জনকে।
প্রত্যক্ষদর্শী বেলাল নামের এক যুবক বলেন, গভীর রাতে ইয়াসিন বাহিনীর লোকজন ভারী অস্ত্র নিয়ে রাস্তার মধ্যখানে গর্তগুলো খুঁড়তে থাকে। একপর্যায়ে তারা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় ইয়াসিন বাহিনীর সঙ্গে র্যাব ও পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলি হয়। একপর্যায়ে তারা পালিয়ে যায়।
নাজমা আক্তার নামের আরেক বৃদ্ধ মহিলা বলেন, আমার ঘরের সামনেই ইয়াসিন বাহিনীর লোকরা রাস্তার মধ্যে গর্ত করেছেন। আমার ঘর দোয়ার সব ইয়াসিন বাহিনীর লোকরা মাটি দিয়ে ভরাট করে দিয়েছে। আমরা কোনো বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকতে চাই না। আমরা সাধারণভাবে বাঁচতে চাই।
র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা র্যাবের ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে। সন্ত্রাসীরা ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকলে র্যাব সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাড়তি ফোর্স যেতে না পারে সে লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে দেয় সন্ত্রাসীরা। এরপরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে পৌঁছে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করেছে। ঘটনাস্থল থেকে একপর্যায়ে কিছু সন্ত্রাসী পালিয়ে গেছে, কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।