সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সাক্ষাৎকারে বর্তমান সরকারের সামনে ভূ-রাজনৈতিক যে চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে সেটা তুলে ধরেছেন বলে মন্তব্য করেছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের।
সোমবার (২৫ মে) তিনি ফেসবুক পোস্টে যমুনা টিভির একটি প্রতিবেদন শেয়ার করে বলেন, ‘এই সাক্ষাৎকারটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘এই চ্যালেঞ্জ আরো উপলব্ধি করতে পারা যাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট ভবিষ্যতে চীন সফরের পর। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য চীন-পাকিস্তান যৌথ প্রযুক্তিতে নির্মিত যুদ্ধবিমান জেএফ ১৭ থান্ডার ক্রয়ের বিষয়টি সামনে আসার পর, বিভিন্ন পন্থায় দেশের বিমান বাহিনীকে বিতর্কিত করার প্রচেষ্টা চলছে।
জুলকারনাইন সায়ের বলেন, ‘তৌহিদ সাহেব তার বক্তব্যে কিচেন ক্যাবিনেটের যে সদস্যদের নাম উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকলেন, তাদের প্রত্যেকেই আপনাদের কাছে বেশ পরিচিত এবং তারা কেউই তাদের মূল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ থেকে বিচ্যুত হননি। ছোটন গ্যাং-এর কথা স্মরণ আছে নিশ্চয়? আপনারা কি ভেবেছেন তারা হারিয়ে গেছে? মোটেও না, বরং আড়ালে বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্র ও কূটকৌশলের ছক তৈরি করছে। পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে তাদের নিয়মিত ভ্রমণ ও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সেমিনার ও নানামুখী তৎপরতা ইত্যাদি ইঙ্গিত বহন করে যে তারা বসে নেই।
এ সময় ফেসবুক পোস্টে তিনি আরো লেখেন, দুটো ঘটনা আপনাদের কাছে তুলে ধরছি, ৬ মে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয় ঘোষণার পর, ৮ মে ভারত অগ্নি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে। যা বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং মূল ভূখণ্ডের কিছু অংশ হতে বেশ ভালোভাবে চোখে পড়ে। আর এর ঠিক একদিন পর, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
সায়ের লেখেন, নিকট অতীতে ভারতের কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ বাংলাদেশ হতে খালি চোখে দেখা গেছে বা এ নিয়ে পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে, এমনটি মনে পড়ছে না। তবে নিকট অতীতে বাংলাদেশকে প্রতিপক্ষ নয় বরং সারোগেট স্টেট হিসেবেই প্রতিবেশী রাষ্ট্রটি বিবেচনা করেছে।
তিনি বলেন, ‘গত ২১ মে বিভিন্ন পত্রিকার বরাতে জানা যায়, বাংলাদেশের পাসপোর্টে ‘Passport is valid for all the countries of the world except Israel’ লিখাটি পুনরায় সংযোজিত হতে যাচ্ছে। আর ঠিক তার দুইদিন পর, বেনাপোল সীমান্তের ভারতীয় অংশে বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব ইসরায়েলের নাগরিক মেনদি সাফাদিকে দেখা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের ফ্ল্যাগ পোলের সামনে দাঁড়িয়ে ইসরাইলের পতাকা নাড়তে।
জুলকারনাইন সায়ের বলেন, ‘আগামী দিনে পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের কাজ যখন বাস্তবায়ন শুরু হবে, তখনই বিভিন্ন মহলের অপতৎপরতা ও কৌশল আরো লক্ষণীয় হবে।’