ঈদুল আজহা আগামী ২৮শে মে। এ উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বসেছে কোরবানির অস্থায়ী পশুর হাট। ঈদের আর মাত্র চারদিন বাকি থাকায় ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে হাটগুলোতে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খামারিরা ট্রাকে করে গরু, ছাগল ও অন্যান্য পশু নিয়ে ঢাকায় আসছেন। এবার রাজধানীতে মোট ২১টি অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে রয়েছে ১১টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীনে ১০টি।
সরজমিন রাজধানীর শনিরআখড়া এলাকায় দেখা যায় অলিগলিতে কোরবানির পশুর হাট ছড়িয়ে পড়েছে। হাটকে ঘিরে ক্রেতা-বিক্রেতা, খামারি, স্বেচ্ছাসেবক ও শ্রমিকদের মধ্যে ব্যস্ততা বিরাজ করছে। ইজারাদার কর্তৃপক্ষ থেকে বসানো হয়েছে পশুর চিকিৎসকদের ক্যাম্প, টয়লেট ও পানির ব্যবস্থা।
বিক্রেতারা বলছেন, রাজধানীতে শেষ সময়েই গরু কেনাকাটা বেশি হয়। পশু রাখার জায়গার অভাবে শেষদিকে গরু কিনেন সবাই। ঈদের আর চারদিন বাকি থাকায় এখন থেকে ক্রেতারা পশু কেনা শুরু করেছেন। কোরবানির সময় ঘনিয়ে এলে আরও বিপুলসংখ্যক পশু ঢাকায় প্রবেশ করবে। শেষের তিনদিনকে টার্গেট করেছেন তারা। আশা করছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারে পশুর সংকট হবে না এবং দামও তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকবে
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কোরবানির জন্য ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি পশু। ফলে চাহিদার তুলনায় এবার বাজারে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
গোবিন্দপুরে হাতুড়ি দিয়ে বাঁশের বেড়া স্থাপন করছিলেন ফরিদপুরের টিটু শেখ। আর পাশেই তার ভাই লিটন গরুকে মুখে খড় তুলে দিচ্ছিলেন। অন্য বছরের মতো এবারো শনিরআখড়ায় গরু নিয়ে এসেছেন বিক্রির জন্য। তিনি বলেন, ২০টি গরু নিয়ে এসেছি। ১ লাখ ২০ হাজার থেকে শুরু করে ৪ লাখ টাকার গরু আছে। আমার এখানে সব সিন্ধি জাতের গরু এ ছাড়া দেশি গরু রয়েছে। তিনি বলেন, গ্রামে হাট জমে ঈদের এক সপ্তাহ আগে, কিন্তু শহরে পশু রাখার জায়গা না থাকায় হাট জমে দুই থেকে তিন দিন আগে। এতদিন ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে দেখেছে পশুর দাম কেমন, বাজার বুঝেছেন এখন থেকে ক্রেতারা আসতে শুরু করেছেন।
৩০ মিনিটের দরকষাকষির শেষে নিজের পছন্দের মতো পশু কিনেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, পশু কিনতে আসলাম। ঈদের আগের দিন সাধারণত দাম হয় বৃদ্ধি পায় না হয় কমে যায়। গরু মেয়ের পছন্দ হয়েছে প্রথমে বিক্রেতা ১ লাখ ৬০ হাজার দাম হাঁকিয়ে ছিল অবশেষে ১ লাখ ২০ হাজার দিয়ে কিনতে পেরেছি।
কুষ্টিয়া থেকে গরু নিয়ে এসেছেন খামারি কুদ্দুস বেপারী। তিনি বলেন, এবার হাটে ৫০টি গরু নিয়ে এসেছি। এর মধ্যে, সিন্ধি, শাহীওয়াল ও দেশি জাতের গরু রয়েছে। ১ লাখ থেকে শুরু করে ৪ লাখ টাকার গরু রয়েছে। বৃষ্টি-বাদলের দিন তাই আগেভাগে চলে আসলাম। আজ দুটো গরু বিক্রি হয়েছে। হাটের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, এখানে হাট কমিটির পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পশুচিকিৎসক, পাবলিক টয়লেট ও খাবার পানির ব্যবস্থা করেছেন তারা।
মৃধাবাড়ি সড়কের ইজারাদার তরিকুল ইসলাম বলেন, হাটের নিরাপত্তার জন্য শতাধিক সেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া টাকা লেনদেনের জন্য অস্থায়ী ব্যাংক, শৌচাগার, পশুচিকিৎসক ও পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ক্রেতারা নির্বিঘ্নে তাদের পশু ক্রয় করতে পারবেন।
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু মানবজমিনকে বলেন, হাটের আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে পোশাকধারী ও সাদাপোশাকে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পশুর গাড়িগুলো যেন নির্বিঘ্নে প্রবেশ করতে পারে সে জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। কেউ যেন প্রতারিত না হন সে জন্য জালটাকা শনাক্তকরণ মেশিন বসানো হয়েছে। তিনি বলেন, মলম পার্টি, ছিনতাইকারী বা পকেটমারদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বিক্রেতাদের পশু বিক্রির টাকা হাট এলাকায় থাকা অস্থায়ী ব্যাংকে জমা দেয়ার এবং ক্রেতাদের টাকা নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বড় অঙ্কের লেনদেনের জন্য পুলিশের সহযোগিতা নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ক্রেতা-বিক্রেতাদের আমরা সবাইকে সাহায্যের জন্য সবসময় প্রস্তুত আছি।