ভারত -বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে এবার ‘স্মার্ট বর্ডার’ চালুর ভাবনা মোদি সরকারের। আগামী এক বছরের মধ্যে স্মার্ট বর্ডারের কাজ শুরু হবে। ফলে সীমান্তকে দুর্ভেদ্য করে তোলা সম্ভব হবে। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে বিএসএফের এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেয়ার সময় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একথা বলেন।
বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান সীমান্তেও ‘স্মার্ট বর্ডার’ চালু করা হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তের সর্বত্র জওয়ান মোতায়েন কার্যত অসম্ভব। তাই জওয়ানদের নজরদারির পাশাপাশি ‘স্মার্ট বর্ডারে’র মাধ্যমে সীমান্তে থাকবে ড্রোন, হাই রেজ্যুলিউশন ক্যামেরা এবং অন্যান্য সর্বাধুনিক মনিটরিং ডিভাইস। তাছাড়া পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বিএসএফের যোগাযোগ বাড়িয়ে ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক উন্নত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার ভাষণে ফের একবার অনুপ্রবেশ রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সীমান্তগুলোকে দুর্ভেদ্য করে তোলা সম্ভব হবে। ফলে সীমান্ত এলাকায় জনবিন্যাস পরিবর্তনের যে চেষ্টা চলছে, তাতেও লাগাম টানা সম্ভব হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের সরকার (তিন রাজ্যেই বতর্মানে বিজেপি সরকার) অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে কেন্দ্রের নীতির সঙ্গে একমত। প্রত্যেক কথিত অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে চিহ্নিত করে বহিষ্কারের বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
শুক্রবারই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নয়াদিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রাজ্যে ক্ষমতায় বসেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবৈধ অভিবাসী প্রশ্নে নিয়মিত হুঙ্কার দিয়ে চলেছেন। রাজ্যের বিজেপি সরকারের নীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের ধরো আর সীমান্তে পাঠাও পুশব্যাকের জন্য।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ ৪০৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি সীমান্ত রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই। এর মধ্যে ৫৭৯ কিলোমিটার অংশের সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নেই। বেড়া দেয়ার জন্য শুভেন্দুর সরকার সমস্যা মিটিয়ে জমি হস্তান্তর শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই অনেক জায়গায় বিএসএফ কাজও শুরু করেছে।