পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের দ্বিতীয়বারের মতো তেহরান সফরকে আঞ্চলিক কূটনীতিতে অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে এই সফরে ইরান-পাকিস্তান সম্পর্কের বাইরেও চলমান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন তিনি।
সফরকালে তিনি দুই দফা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এছাড়াও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও তার বৈঠক হয়েছে।
বার্তা সংস্থা আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়, তবে এই সফর মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালিতে দেশটি কার্যত নিজেদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করছে। ইতোমধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সমন্বয়ে কয়েকটি জাহাজ ওই পথ অতিক্রম করেছে বলেও জানা গেছে।
তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি না হলেও, ইরান ধীরে ধীরে হরমুজ প্রণালির ওপর বাস্তব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরান বর্তমানে পাকিস্তান ও কাতারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমানো এবং সম্ভাব্য সমঝোতার পথ খোঁজা। এসব আলোচনায় যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে।