Image description

২০১৯ সালে শুরু হয়ে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে। নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় কয়েকবার
মেয়াদ বাড়িয়ে চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় চলতি বছরের ৩১ মে। অথচ এখনও সম্পন্ন হয়নি ঢাকা সিটি
নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রকল্পের (ডিএসিএনইউপি) অধিকাংশ কাজ। আবার যতটুকুকাজ হয়েছে তার চেয়ে বেশি
দেখিয়ে বিল তোলার অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প পরিচালক, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে।
২০১৯ সালের মার্চে ৮৮০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ডিএসিএনইউপি প্রকল্পের অনুমোদন দেয় জাতীয়
অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ৪৫ কোটি ৯৭ লাখ এবং
বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে ৮৩৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, নয়াবাজার-সূত্রাপুর-গুলিস্তান এবং
খিলগাঁও-বাসাবো-মুগদা এলাকার বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নে এ প্রকল্প নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল।
প্রকল্পের আওতায় ১৮টি কমিউনিটি সেন্টার, ১৫ দশমিক ৯১ কিলোমিটার রাস্তা , দুটি ফুটওভার ব্রিজ, ৮২টি ড্রেন,
চারটি সলিড ওয়েস্ট ট্রান্সফার স্টেশন, আটটি পাবলিক টয়লেট, ৮ দশমিক ৫৪ বর্গমিটার খেলার মাঠ, দুই হাজার ৭১৯টি গাছ রোপণ এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তহবিল কাটছাঁট
প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্ধেক কাজও শেষ না হওয়ায় ২০২৪ সালের নভেম্বরে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন কমিয়ে
দেয়। এরপর শাহজাহানপুর ঝিল ও লো হারপুল ব্রিজের কাজ বাদ দিয়ে আরও কাটছাঁট করা হয়। সব মিলিয়ে
প্রকল্প ব্যয় দাঁড়ায় ৫০৪ দশমিক ৭৫ কোটি টাকা। এই অর্থেসড়ক, কমিউনিটি সেন্টার ও নাট্যমঞ্চ নির্মাণসহ
বেশকিছুকাজ অব্যাহত রাখা হয়।
গত ২২ এপ্রিল বিশ্বব্যাংকের কাছে পাঠানো ডিএসসিসির অগ্রগতি প্রতিবেদন বলছে, ২২টি প্যাকেজের মধ্যে মাত্র
চারটির কাজ শেষ হয়েছে। তিনটিতে মামলা, দখল ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে গড়ে ৩০ শতাংশ কাজ করে বন্ধ
রাখা হয়েছে। বাকি প্যাকেজগুলোতে ৩১ মের মধ্যে ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে মেয়াদ শেষে অন্তত ১৪০ কোটি টাকা ফেরত যাবে বিশ্বব্যাংকে।
কাজ অসম্পূর্ণরেখেই লালকুঠির বিল পরিশোধ
বুড়িগঙ্গার তীরে ব্রিটিশ আমলের ঐতিহাসিক স্থাপনা নর্থব্রুক হল তথা লালকুঠি পুনরুদ্ধারে ১৪ কোটি ৪৭ লাখ
টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু পরিকল্পনায় থাকা ফটোশুটের স্থান, ডিজিটাল লাইব্রেরি, বুক ক্যাফে,
স্যুভেনির স্টল, কার পার্কিং, প্রধান ফটকসহ দুটি ফটক; কোনোটিরই কাজ হয়নি। উল্টো পার্কিংয়ের জায়গায়
পেঁয়াজের আড়ত বসিয়ে সেটি ভাড়া দিয়েছে ফরাসগঞ্জ ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
লালকুঠির অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও আসবাবপত্রের দরপত্রের কার্যক্রম এখনও শেষ হয়নি। ডিএসসিসি ২০ মের মধ্যে দরপত্র সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে। তবে ৩১ মের মধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজ শেষ করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

পাশের লালকুঠি কমিউনিটি সেন্টারের অবস্থা আরও করুণ। ২২ এপ্রিল পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ২৫ দশমিক
৬৬ শতাংশ। তবে ইতোমধ্যেই প্রথম তলার গাঁথুনি, অ্যালুমিনিয়াম ও থাইগ্লাস, প্লাম্বিং, টাইলস, রং ও বৈদ্যুতিক
সংযোগ সম্পন্ন দেখিয়ে তিন কোটি ৪২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ৩১ মের মধ্যে দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত ৩৭ শতাংশ কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বাকি কাজ শেষ করতে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদ
বাড়াতে গত ১১ মার্চডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংককে চিঠি পাঠিয়েছেন।
নাট্যমঞ্চ থেকে বালুর মাঠ
গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চের (কাজী বশির মিলনায়তন) উন্নয়নে
২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান
ডিএসএম কনসাল্টিং ফার্মএসি-স্থাপনের নকশায় ভুল করায় প্রকল্প
থমকে যায়। নতুন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স
কনসালট্যান্ট নকশা পরিবর্তন করে কাজ শুরু করতে করতে মেয়াদ
শেষের দিকে। ফেব্রুয়ারিতে ৪৫ শতাংশ অগ্রগতি দেখিয়ে ১১ কোটি
টাকার বিল পরিশোধ হয়েছে। ২২ এপ্রিলের প্রতিবেদনে ৫৪ শতাংশ
কাজ শেষের কথা বলা হয়েছে। নকশার ভুলের কারণে মূল
প্যাকেজের সঙ্গে আরও ছয় কোটি টাকার নতুন প্যাকেজ জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
বাসাবো ভুঁইয়া মাঠের ৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকার কাজ শতভাগ শেষ দেখানো হলেও গ্যালারির দেয়ালের কাজ শেষ হয়নি।
খিলগাঁওয়ের বালুর মাঠের ৬৪ শতাংশ কাজ শেষের কথা বলা হলেও বাস্তবে গ্যালারি, মাঠ, দেয়াল, জলাধারের
ঘাট; কোনোটির কাজই শেষ হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক জয় বলেন, ‘দুই মাস আগে কাজ শুরু করেছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করার চেষ্টা করছি। প্রতিদিনই শ্রমিকরা কাজ করছে।’
নকশার ভুলে ব্যয় বেড়েছে
ধোলাইখাল জলাধারের সবুজায়ন ও পরিবেশ উন্নয়নে প্রায় ২৩ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। পরিকল্পনায়
ছিল একটি মঞ্চ, একটি ঘাট, দুটি ভিউ র‌্যাক, দুটি টয়লেট, জলাধার ঘিরে চারদিকে দেয়াল ও হাঁটার জন্য
সড়ক। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নকশায় ভুল করায় মূল প্রকল্পের সঙ্গে নতুন করে আরও ছয় কোটি টাকার প্যাকেজ
যোগ করতে হয়।
গত ৮ ও ১৫ মে সরেজমিনে দেখা গেছে, জলাধারের চারপাশে দেয়ালের কাজ করার কথা থাকলেও তিন দিকেই
শেষ হয়নি। প্রধান ফটকের কাজ শুরু হয়নি। ৬০০ মিটার সড়কের মধ্যে ১৫০ মিটারের ঢালাই শেষ, ২৫০ মিটার প্রস্তুত, ১০০ মিটার বক্স কালভার্টঢালাই হয়েছে। ২০টি বেঞ্চ ও সবুজায়নের কাজ শুরু হয়নি। অর্থাৎ, ৮৫ শতাংশ কাজ শেষের কথা বলা হলেও সরেজমিন চিত্র সম্পূর্ণভিন্ন।
হাজী জুম্মন ও ফকিরচান কমিউনিটি সেন্টার
হাজী জুম্মন কমিউনিটি সেন্টারের দেয়ালের কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল দেওয়া হয়েছে। অথচ এখনও টাইলস
বসানো, স্যানিটারি, তিনতলা পর্যন্ত অ্যালুমিনিয়াম ও গ্লাস এবং বৈদ্যুতিক ওয়্যারিংয়ের কাজ চলছে। প্রতিবেদনে
৫৭ শতাংশ কাজ শেষের কথা বলা হয়েছে, মেয়াদের মধ্যে ৭০ শতাংশ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
তিনটি কমিউনিটি সেন্টারের ঠিকাদার এম/এস ইউনাইটেড কনস্ট্রাকশন কোম্পানির প্রকল্প ব্যবস্থাপক আয়নাল হক
বলেন, ‘বারবার কাজের ভ্যারিয়েশন আনার কারণে বিলম্ব হয়েছে। আমরা তিনটি কমিউনিটি সেন্টারের কাজ
করছি। এর মধ্যে মাজেদ সরদার ও জুম্মন কমিউনিটি সেন্টারের অবকাঠামো র কাজ শেষ। এখন গ্লাস, টাইলস,
ওয়্যারিংয়ের কাজ চলছে। ভবনের লিফট, এসি, জেনারেটর, সাবস্টেশনের মালামাল আনার অনুমোদন হয়ে গেছে। বিদেশ থেকে আনার পর স্থাপন করা হবে।’
ফকিরচান কমিউনিটি সেন্টারে পাঁচতলা পর্যন্ত অবকাঠামো হয়েছে, ষষ্ঠতলার কলামের কাজ চলছে। দেয়াল,
টাইলস, বৈদ্যুতিক কাজ, লিফট, এসি, জেনারেটর-সাবস্টেশনসহ সিংহভাগ কাজ বাকি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে
৫০ শতাংশ কাজ বাকি রেখেই প্রকল্প শেষ করতে হচ্ছে। ওয়ারির আব্দুর রহিম কমিউনিটি সেন্টারে শেষ মুহূর্তে
জোরেশোরে কাজ চলছে। তারপরও ২০ শতাংশ কাজ বাকি রেখেই প্রকল্প শেষ হবে।
বিলম্বের নেপথ্যে
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, প্রকল্প শুরুর পরও বিশ্বব্যাংকের আপত্তিতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ না হওয়ায় প্রথমে
দরপত্র আহ্বান করা যায়নি। পরামর্শক নিয়োগে বিশ্বব্যাংকের টাস্ক টিম লিডার ইশিতা আলম অবনী এবং
তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক সিরাজুল ইসলামের প্রভাবে প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। ডিজাইন, সুপারভিশন ও মনিটরিং
কনসালট্যান্ট নিয়োগে প্রায় ২০ মাস চলে যায়। এরপর করোনায় আরও সময় নষ্ট হয়।
নির্মাণকাজ নিয়েও নানা জটিলতা ছিল। ফকিরচাঁদ কমিউনিটি সেন্টারের পুরোনো ভবন ভাঙতে কার্যাদেশের
পরও ছয় মাস, আব্দুর রহিম কমিউনিটি সেন্টারে নয় মাস, নলগোলায় বৈদ্যুতিক লাইন সরাতে তিন মাস এবং
লালকুঠিতে ওয়াসার পানির পাম্প অপসারণে এক বছর সময় লাগে। প্রতিটি প্যাকেজে বারবার ভ্যারিয়েশন প্রকল্পকে আরও ধীর করে দেয়।

দরপত্রে কারসাজির অভিযোগ
প্রকল্পে আউটসোর্সিং জনবল সরবরাহ করত বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিস (প্রা.) লিমিটেড। অভিযোগ আছে, ঢাকা
মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাব্বির হোসেনের প্রভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে এই কাজ দেওয়া হয়।
তাদের মাধ্যমে করপোরেশনের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী প্রেমধন রুদ্র পালকে সহকারী প্রকৌশলী, প্রকল্প
পরিচালক রাজিব খাদেমের আত্মীয় তাওশিক রাশাকে সহকারী প্রকৌশলী , উপ-প্রকল্প পরিচালক মফিজুর
রহমানের আত্মীয় তারেক হোসেনকে উপসহকারী প্রকৌশলী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শিহাবুল্লাহর
ভাতিজা দিদারকে সহকারী প্রকৌশলী এবং ছাত্রলীগ নেতা ফরহাদুর রহমানকে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
দরপত্রেও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ আছে। ২২টি প্যাকেজের সাতটিতে একটিমাত্র প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। ফলে প্রতিযোগিতার কোনো সুযোগ ছিল না।
সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নাছিরুল হাসান সজীবে র তৎপরতায় চারু এন্টারপ্রাইজকে
তিনটি, এসবি অ্যাসোসিয়েটসকে ছয়টি, হাজী সেলিমের প্রতিষ্ঠান এম/এস মদিনা ডেভেলপমেন্টসকে একটি
এবং এম/এস ইউনাইটেড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে তিনটি কমিউনিটি সেন্টারসহ সব দরপত্র ভাগ করে
দেওয়া হয়।
এর মধ্যে এসবি অ্যাসোসিয়েটস নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করায় তাদের দরপত্র বাতিল হয়, পরে আদালতের
নির্দেশে তারা কাজ চালিয়ে যায়। করপোরেশনের প্রকৌশলীদের অভিযোগ, সহকারী প্রকৌশলী ফরহাদুর
রহমানের সঙ্গে চারু এন্টারপ্রাইজ ও এসবি অ্যাসোসিয়েটসের ব্যবসায়িক সম্পর্কছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একজন প্রকৌশলী বলেন, ‘দরপত্র থেকে শুরু করে নকশাসংশ্লিষ্ট কাজে
অনিয়মের কারণে প্রকল্প দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। পরে চালুহলেও গতি ছিল মন্থর। এখন প্রকল্প শেষ হওয়ার দুই মাস
আগে থেকে তড়িঘড়ি করে কাজ হওয়ায় বালুর মাঠ, ধোলাইখাল সড়কের সংস্কারসহ বিভিন্ন প্যাকেজের কাজের মান খারাপ হচ্ছে। আবার প্রকল্পের অর্থযেন বেশি ফেরত না যায় তাই যতটুকুকাজ শেষ হয়নি, এর চেয়েও বেশি পরিমাণ কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হচ্ছে।’
যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা
প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রাজিব খাদেম বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন আগামী ৩১ মে পর্যন্ত।
এখন প্রকল্পটি পুরোপুরি শেষ করতে বিশ্বব্যাংক ও সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আশা করি, বিশ্বব্যাংক

ও সরকারের যে কোনো মাধ্যমে এটির সমাধান হবে। ফিজিবিলিটি
স্টাডির সঙ্গে বাস্তবিক কাজে অনেক ক্ষেত্রেই মিল ছিল না। যেগুলো
পরে সংশোধন করতে হয়েছিল। এর কারণেও প্রকল্পে সময় বেশি
লেগেছে।’
দরপত্রে একটিমাত্র প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ও অনিয়মের বিষয়ে তিনি
বলেন, ‘এর আগে আরেকজন প্রকল্প পরিচালক ছিলেন, এ বিষয়ে
তিনি ভালো বলতে পারবেন। আউটসোর্সিংয়ে যোগ্যতা অনুযায়ী
নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকল্পের
মেয়াদ শেষদিকে হওয়ায় দ্রুত কাজ করছে। কাজ ছাড়া বিল দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিটি কাজ বিশ্বব্যাংকের
প্রতিনিধিরাও যাচাই করে দেখছেন।’
কনসালট্যান্ট প্রতিষ্ঠান, আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান নিয়োগ এবং দরপত্রে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথম
প্রকল্প পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আড়াই বছর আগে আরেকজনকে প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
এরপরও কিছুজানতে চাইলে তথ্য অধিকার আইনে লিখিত আবেদন করার পরামর্শদেন তিনি।
বিশ্বব্যাংকের টাস্ক টিম লিডার ইশিতা আলম অবনী ফোনে এ বিষয়ে কিছুবলতে রাজি হননি। পরে এশিয়া
পোস্টের পক্ষ থেকে তার বিশ্বব্যাংকের দাপ্তরিক ইমেইলে প্রশ্ন পাঠিয়ে জবাব চাওয়া হয়। তবে এই প্রতিবেদন
প্রকাশ পর্যন্ত কোনো উত্তর আসেনি।
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্পের কোনো কাজ যেন অর্ধসমাপ্ত না থাকে, এ
জন্য সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’