নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস), সাংবাদিক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পরিচয়ে যোগাযোগ করতেন সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে। সবশেষে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিচয় দেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস-১) হিসেবে। গত ১৮ মের ঘটনাটি নজরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের।
ধানমন্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে একাধিক পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে রাজধানীর সাভারের রাঢ়ীবাড়ী এলাকা থেকে আব্দুল্লাহ আলম মামুন নামের এই প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ মে আব্দুল্লাহ আলম মামুন তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ফোন দেন। এ সময় তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস-১) হিসেবে পরিচয় দেন। বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরির আবেদন করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া মামুনের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার উয়াইল গ্রামে। তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন, ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়পত্র, ‘প্রেস’ লেখা একটি জিপ গাড়ি, ‘আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট’ সম্বলিত লিফলেট এবং জমি ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত বিভিন্ন দলিলের ফটোকপি উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আব্দুল্লাহ আলম মামুনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই চেক জালিয়াতিসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত। তিনি বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্য, মামলার আসামিদের অব্যাহতির আশ্বাস দিয়ে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন।