Image description

‌‘রামিসার ধর্ষক ও হত্যাকারীর কী শাস্তি হওয়া উচিত?’ তা জানতে চেয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। এ ব্যাপারে ২২ মে দুপুর ২টা ৫৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেছেন তিনি।

আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‌‘রামিসার ধর্ষক ও হত্যাকারীর কী শাস্তি হওয়া উচিত? তার জন্য মানুষের দুনিয়ায় কোনো শাস্তিই যথেষ্ট নয়। তবে শাস্তি অন্তত এমন হওয়া উচিত, যাতে অপরাধীরা ভয় পায় এবং মানুষের মনে কিছুটা শান্তি আসে। শিশু ধর্ষণ এতটাই এখন বেড়েছে যে, দীর্ঘ বিচার শেষে নিভৃতে ফাঁসি দিলে সেই উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকারীর শাস্তি হওয়া উচিত প্রকাশ্যে একশত চাবুক; এরপর অপরাধী বেঁচে থাকলে ফাঁসি।

তবে এর চেয়েও বেশি প্রয়োজন বিচারকে দ্রুততর করা। আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যার পর দ্রুত বিচারের জন্য আইন মন্ত্রণালয় নিজে উদ্যোগী হয়ে আইন সংশোধন করেছিল। শিশু ধর্ষণ বিচারের জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনালের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আছিয়া ধর্ষণের বিচার ৬ কার্যদিবসে সমাপ্ত হয়েছিল। তারপরও সুপ্রীম কোর্টে আপিল নিস্পত্তি হয়নি বলে সেই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ফাঁসি কার্যকর হয়নি। আপিল নিস্পত্তি দ্রুততর করার এখতিয়ার আইন মন্ত্রণালয়ের ছিল না। এটা করার উদ্যোগ একমাত্র প্রধান বিচারপতি নিতে পারেন।

গতকাল প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, রামিসা হত্যার বিচারও অল্পদিনের মধ্যে হবে আশা করি। কিন্তু সেটি তো শুধু বিচারিক আদালতে। এরপর হাইকোর্টে আপিল হবে, তারপর আপিলেট ডিভিশনে আপিল! লেগে যাবে অসহনীয় দীর্ঘসময়! এ ধরনের মামলা সুপ্রীম কোর্টে (হাইকোর্ট ও আপিলেট ডিভিশন) নিষ্পত্তি হতে বহু বছর লেগে যায়।

তবে এর সমাধানও আছে। আছিয়া ও রামিসাদের মতো মামলায় অপরাধী নরপশুদের দ্রুত ন্যায়বিচার দেওয়ার ক্ষমতা প্রধান বিচারপতির হাতে রয়েছে। প্রধান বিচারপতি চাইলে হাইকোর্টের এক বা দুটি নির্দিষ্ট বেঞ্চকে শুধু শিশু ধর্ষণ মামলার আপিল শুনানির দায়িত্ব দিতে পারেন। সেখান থেকে আপিলেট ডিভিশনে গেলে প্রয়োজন হলে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে (এমনকি শনিবারেও) দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বিচারিক আদালতে বিচার শেষ হওয়ার পর এই প্রক্রিয়ায় কিছুদিনের মধ্যেই আপিল শুনানি সম্পন্ন করা সম্ভব।

মানুষ আর অপেক্ষা করতে পারছে না। শিশু ধর্ষকদের দ্রুত বিচার ও রায় নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।’