পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কক্সবাজার জেলায় বসছে ৯৮টি কোরবানির পশুর হাট। এর মধ্যে ৪৮টি স্থায়ী এবং ঈদকে কেন্দ্র করে অস্থায়ীভাবে বসছে আরও ৫০টি হাট। হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে তিন স্তরের ব্যবস্থা। জাল নোট শনাক্তে বসানো হবে বিশেষ মেশিনও।
তবে সব প্রস্তুতির মাঝেও স্থানীয় খামারিদের বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে মিয়ানমার থেকে আসা চোরাই গরু। তাদের আশঙ্কা, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু ঢুকলে দেশীয় খামারিরা লোকসানে পড়বেন এবং বাজারে দাম কমে যেতে পারে।
জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখা সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর ও টেকনাফ উপজেলার পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পৌঁছেনি। ফলে পশুর হাটের চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ হয়নি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, গত বছরের তুলনায় এবার অস্থায়ী হাটের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলাভিত্তিক অনুমোদিত পশুর হাটের মধ্যে সদরে ১৪টি, রামুতে ১৪টি, চকরিয়ায় ২২টি, পেকুয়ায় ৮টি, উখিয়ায় ৮টি, টেকনাফে ৯টি, মহেশখালীতে ৬টি এবং কুতুবদিয়ায় ৬টি হাট রয়েছে। তবে বেসরকারি হিসাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক হাট বসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, কক্সবাজার সদরে ১৪টি পশুর হাট ইজারা হলেও বর্তমানে নিয়মিত বসছে সাতটি। এরই মধ্যে অধিকাংশ হাটে গরু-মহিষের বেচাকেনা শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, কয়েকটি হাটে মিয়ানমার থেকে আসা গরু-মহিষও দেখা যাচ্ছে।
কক্সবাজার সদরের সবচেয়ে বড় পশুর হাট খরুলিয়া বাজারে এরই মধ্যে বিক্রি বেড়েছে। প্রতিবছর এ হাটে গরুর সারি প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কজুড়ে বিস্তৃত থাকে।
বাজারটির ইজারাদার আবদুল্লাহ আল কাফি বলেন, খরুলিয়া বাজার এবার ২ কোটি ৬০ লাখ টাকায় ইজারা হয়েছে। পশুর সরবরাহ ভালো থাকলেও মাঝারি আকারের গরুর দাম তুলনামূলক বেশি হতে পারে। দেশীয় গরু নিয়ে বিক্রেতারা এরই মধ্যে হাটে আসতে শুরু করেছেন।
আগামী সপ্তাহ থেকে ঈদগাঁও বাজার, পিএমখালীর জুমছড়ি বাজার, রামুর কলঘর বাজার, মিঠাছড়ির কাটির রাস্তা বাজার, গর্জনিয়া বাজার ও উখিয়ার রুমখাঁ বাজারসহ বিভিন্ন হাটে বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, পশুর হাটে সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে পুলিশের বিশেষ টিম, সাদা পোশাকের সদস্য এবং হাইওয়ে পুলিশের পৃথক টিম দায়িত্ব পালন করবে। প্রতিটি বাজারে মোবাইল টিমও থাকবে।
তিনি বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে নির্বিঘ্নে পশু কেনাবেচা করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জাল টাকা শনাক্তে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সহায়তায় বিশেষ মেশিন বসানো হবে। পাশাপাশি পশুর চিকিৎসার জন্য ভেটেরিনারি চিকিৎসকরাও দায়িত্ব পালন করবেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় জানিয়েছে, কক্সবাজারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ১৬৩টি পশু। বিপরীতে চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৯২টি। সে হিসাবে জেলায় প্রায় ২৪ হাজার ৭৭১টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।