স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থলে বদলি হতে পারবেন বেসরকারি এমপিওভুক্ত কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। এ ছাড়া যোগদানের পর চাকরির দুই বছর পূর্ণ হলে বদলির আবেদন করা যাবে। পাশাপাশি বছরে একটি প্রতিষ্ঠানের দুজন শিক্ষক আবেদন করতে পারবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে বুধবার (২০ মে) প্রকাশিত ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার এর মাধ্যমে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ এ এসব কথা বলা হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, আবেদনকারী শিক্ষক তাঁর চাকরির আবেদনে উল্লেখকৃত নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করবেন। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে নিজ বিভাগের যে কোন জেলায় বিদ্যমান শূন্য পদের বিপরীতে বদলির আবেদন করতে পারবে।
এছাড়াও আবেদনকারী শিক্ষক স্বামী-স্ত্রীর নিজ জেলা অথবা স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল জেলায় (স্বামী/স্ত্রী সরকারি/আধা সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত/এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকার শর্তে) বদলির আবেদন করতে পারবেন। প্রথম যোগদানের পর চাকরি দুই বছর পূর্ণ হলে শিক্ষক বদলির আবেদন করার জন্য যোগ্য হবেন।
বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর ন্যুনতম দুই বছর কর্মে নিয়োজিত থাকার পর পরবর্তী বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। একজন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন। একটি শূন্য পদের জন্য একাধিক আবেদন পাওয়া গেলে কয়েকটি অগ্রাধিকার বিবেচনা করতে হবে- নারী, দূরত্ব, স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল (সরকারি/আধা সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত/এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জ্যেষ্ঠতা।
বদলিকৃত প্রতিষ্ঠানে যোগদানকৃত শিক্ষক ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতাক্রমের নীচে অবস্থান করবেন। একটি পদের জন্য প্রতিযোগী সব আবেদনকারীর কর্মস্থল একই উপজেলায় হলে সে উপজেলার কেন্দ্র হতে কাঙ্ক্ষিত উপজেলার কেন্দ্র-এর দূরত্ব পরিমাপ এবং কর্মস্থলে অবস্থানকালীন মেয়াদ বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।
একটি পদের জন্য প্রতিযোগী আবেদনকারী বিভিন্ন উপজেলার হলে তাদের কর্মস্থল যে উপজেলায়, সে উপজেলার কেন্দ্র হতে কাঙ্ক্ষিত জেলার কেন্দ্র-এর দূরত্ব পরিমাপপূর্বক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। একটি পদের জন্য প্রতিযোগী আবেদনকারীর কর্মস্থল বিভিন্ন জেলায় হলে তাদের স্ব-স্ব জেলার কেন্দ্র হতে কাঙ্ক্ষিত জেলার কেন্দ্রের দূরত্ব পরিমাপ করতে হবে।
দূরত্ব পরিমাপের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-এর অনুসৃত মডেল অনুসরণ করতে হবে জানিয়ে এতে আরও বলা হয়েছে, অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য সম্বলিত আবেদন বিবেচনাযোগ্য হবে না। ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য প্রদান প্রমাণিত হলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। প্রতিবছর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রমের পূর্বে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষক বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুই জন শিক্ষক অগ্রাধিকারভিত্তিতে [নারী,দূরত্ব, স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল (সরকারি/ আধা সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত/ এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) ও জ্যেষ্ঠতা] বদলির সুযোগ পাবেন। তবে এক বিষয়ে একজনের অধিক শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন না এবং পারস্পরিক বদলির ক্ষেত্রে এ সংখ্যা প্রযোজ্য হবে না।
আবেদনকারী শিক্ষক বদলির আবেদনে সর্বোচ্চ তিনটি কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানের নাম প্রস্তাব বা উল্লেখ করতে পারবেন। সরকার জনস্বার্থে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ যেকোন শিক্ষককে বদলি করতে পারবেন।