Image description

Qadaruddin Shishir(কদরুদ্দীন শিশির)

না, শরীয়া আইন থাকলেই রেইপ কমে যাবে বা মেয়েরা হাফপ্যান্ট না পরলেই রেইপ নাই হয়ে যাবে-- এইগুলো সঠিক অনুমান না।
 
১. এই স্ক্রিনশটের নিচের দিকে নিউজে যে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলৎকার করে মেরে ফেলা হয়েছে, সে মেয়ে নয়, সে হাফপ্যান্ট পরে হাঁটতো না এবং তার রেইপকারীর শরীয়া আইন জানা লোক।
২. শরীয়া আইন থাকলেই রেইপ বন্ধ হয় না তার প্রকৃষ্ট উদাহারণ সৌদি আরব। দেশটিতে নিয়মিত রেইপের অপরাধে শরীয়া আইন অনুসারে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। সৌদি আরবে এরকম শাস্তি দশকের পর দশ ধরে দেয়া হচ্ছে। তার মানে দাঁড়াচ্ছে, শরীয়া আইনে দেয়া শাস্তির পরও সৌদি আরবে দশকের পর দশ ধরে রেইপ বন্ধ হয়নি।
 
৩. সৌদি আরবে প্রবাসী নারী শ্রমিকরা সৌদি নাগরিকদের দ্বারা রেইপ ও অন্যান্য যৌন হয়রানির শিকার হওয়া একটা সিস্টেমেটিক অপরাধ। দুয়েকটি ঘটনায় বিচার হলেও বেশিরভাগ রেইপ ভিকটিম ওই দেশে মুখ খোলারই সাহস করতে পারেন না। নিজ দেশে ফিরে এসবের বর্ণনা দেন। সৌদি শরীয়া আইন তাদেরকে ধর্ষিত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারেনি এবং তাদের রেপিস্টের বিচারও নিশ্চিত করতে পারেনি।
 
৪. নিজেদের ক্ষমতাবান নাগরিকদের/কর্মকর্তাদের রেইপের (দেশে অথবা বিদেশে) বিচার করে না সৌদি আরব সরকার-- এমন অভিযোগ অনেক আছে (ডান পাশের স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য)। সৌদি শরীয়া আইন তার ওই অভিযুক্ত ক্ষমতাধর নাগরিকদের আইনের আওতায় আনতে পারেনি।
 
৫. শরীয়া আইনে রেইপিস্টকে (এবং এডাল্টারার) শাস্তির আওতায় আনার যে স্ট্রিক্ট ম্যানুয়াল ক্রাইটেরিয়া তা অনেক ক্ষেত্রে রেপিস্টের শাস্তি নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নয়। বরং আধুনিক প্রযুক্তির কারণে রেপিস্টের স্বীকারোক্তি অথবা ৪ জন প্রত্যক্ষদর্শী ছাড়াও রেইপ সংগঠিত হয়েছে কিনা তা নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব। অর্থাৎ, শাস্তি হিসেবে হদ আরোপ করা হোক বা না হোক, রেপিস্টের অপরাধ এস্টাবলিশ করতে প্রচলিত শরীয়া আইনের ক্রাইটেরিয়ার বাইরে বের হতে হচ্ছে। (আমি জানি না অলরেডি ফকিহরা এসব ক্রাইটেরিয়াকে হদ নির্ধারণের জন্য গ্রহণ করেছেন কিনা)।
শিশু রামিসার কেইসটাকেও উদাহরণ হিসেবে নেয়া যায়। রামিসাকে যদি খুন করা না হতো, ও যদি শুধুমাত্র রেইপের শিকার হয়ে সুস্থভাবে বেঁচে যেত, তাহলে তার ২ অপরাধীর অপরাধ এস্টাবলিশ করতে শরীয়া আইনের প্রচলিত বিচার পদ্ধতি যথেষ্ট হতো না। কারণ ঘটনাস্থলে পেনেট্রেশনের ৪ জন সাক্ষী জোগাড় কখনো সম্ভব হতো না। ওখানে ২ অপরাধী ছাড়া আর কেউ ছিল না। তারা নিজেরা স্বীকার না করলে ওদের ওপর হদ আরোপ করার সুযোগ হতো না। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে শিশু বাচ্চাটি রেইপের শিকার হয়েছে কিনা (যেহেতু তার কনসেন্ট দেয়ার কিছু নাই) তা তার শরীরের নানান পরীক্ষা নিরীক্ষার দ্বারা জানা সম্ভব তাদের স্বীকারোক্তি বা প্রত্যক্ষদর্শী ছাড়াও। এবং এরপর অপরাধীদের শাস্তি দেয়া সম্ভব হতো।
 
৬. বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ধর্ষণের যে শাস্তি সেটি শরীয়া আইনের শাস্তির চেয়ে আলাদা কিছু নয়। দুটিই মৃত্যুদণ্ড। শুধু প্রক্রিয়াতে ভিন্নতা। মৃত্যুদণ্ড এর শাস্তির ভয় যদি রেপিস্টকে রেইপ থেকে নিভৃত করতে না পারে, তাহলে কী প্রক্রিয়ায় সেই মৃত্যুদণ্ড হলো সেই ভয় তাকে খুব নিভৃত করবে এটা কেন মনে হয় কারো কাছে? এবং শরীয়া আইনের প্রক্রিয়ায় শাস্তি পাওয়ার ভয়ও যে কাউকে রেইপ থেকে নিভৃত করতে পারে না তার উদাহরণ তো উপরের ২/৩/৪ নং পয়েন্টে দেখানোই হয়েছে।
 
৭. অপরাধী অপরাধ করে ‘পার পেয়ে যাওয়ার’ আশা বা সম্ভাবনা থেকে। এই ’পার পেয়ে যাওয়ার আশা’টি আইনের ধরনের কারণে তৈরি হয় না। বরং আইনের প্রয়োগের ধরণের কারণে তৈরি হয়।
 
৮. হ্যাঁ, অপরাধ প্রিভেন্ট করার নানান উপায় নানান সমাজে/দর্শনে নানানভাবে আছে। ইসলামে যৌন অপরাধ প্রিভেন্ট করার বেশ কিছু উপায় অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। সেগুলো ধর্মের অনুসারীরা মেনে চললে প্রিভেনশনে ভাল ফল পাওয়ার সুযোগ থাকে। তবে সেগুলো ইসলামের অনুসারী নন এমন লোকদের ওপর আরোপ করার সুযোগ নাই।
মূল কথা, আইনটা শরীয়া নাকি নন-শরীয়া সেটা কম গুরুত্বপূর্ণ। আইন প্রয়োগ হয় কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ।
 
 
 
May be an image of text