রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে হয়তো ভাবেননি, সেটিই হবে তাদের জীবনের শেষ রাত। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে হওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণে সবজি বিক্রেতা কালাম ও তার পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ভবন মালিকের অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গত ১০ মে ফতুল্লা থানার উত্তর ভূঁইগড় এলাকার একটি আটতলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন— কালাম (৩৫), তার স্ত্রী সায়মা (৩২) এবং তাদের তিন সন্তান মুন্না (৭), কথা (৪) ও মুন্নি (১০)। কালাম পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের উত্তর কনকদিয়া গ্রামের চান্দে আলীর ছেলে।
দগ্ধ হওয়ার পর তাদের জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১১ মে কালামের মৃত্যু হয়। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। পরে একে একে মারা যায় তিন শিশু সন্তান। শুক্রবার (১৫ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মারা যান সায়মা। তার শরীর পুড়েছিল ৬০ শতাংশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটির রান্নাঘরগুলোতে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ছিল না। নিচতলার বিস্ফোরিত ফ্ল্যাটের রান্নাঘরে কোনো ভেন্টিলেটর ছিল না। শুধু তাই নয়, রান্নাঘরের জানালার বাইরের অংশ বস্তা ও আবর্জনা দিয়ে এমনভাবে আটকে রাখা হয়েছিল যে জানালা খোলারও সুযোগ ছিল না। ফলে গ্যাস জমে থাকলেও সুযোগ ছিল না বের হওয়ার।
পাশের এক বাসিন্দা জানান, ভবনের মালিক শাহজাহান মিয়া ভাড়াটিয়াদের থাই গ্লাস না খোলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিস্ফোরণের পর আতঙ্কে পাশের কয়েকটি ফ্ল্যাটের বাসিন্দারাও বাসা ছেড়ে চলে গেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিস্ফোরিত ফ্ল্যাটে বাতাস চলাচলের কোনো ব্যবস্থা নেই। রান্নাঘরের অংশটি ছিল প্রায় পুরোপুরি বদ্ধ।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরিফিন জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে বন্ধ কক্ষে গ্যাস জমে থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি গ্যাস লাইটারও উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে ভবনের কেয়ারটেকার বাবুল সিপাহী দাবি করেছেন, কালামের মানসিকভাবে অসুস্থ এক সন্তান গ্যাসের চুলা খুলে রাখায় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে রান্নাঘরে ভেন্টিলেটর না থাকার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারেননি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনের মালিক শাহজাহান মিয়া ও তার পরিবার সেখানে থাকতেন না। তিনি ঢাকার বংশালে ব্যবসা করেন এবং সেখানেই বসবাস করেন। দুর্ঘটনার পর তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার স্ত্রী জানান, তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।