গাইবান্ধায় বিয়ের সময় কাবিননামায় ১০ লাখ টাকা মোহরানা উল্লেখ থাকলেও তা পরিবর্তন করে মাত্র এক লাখ ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এমন অভিযোগে করা মামলায় গোফফার নামের এক কাজিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় সদর থানা পুলিশ। এর আগে সকালে গাইবান্ধা পৌরসভা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
কাজিকে কারগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধা সদর কোর্টের জেনারেল রেজিস্ট্রার অফিসার (জিআরও) গোবিন্দ চন্দ্র রায়।
গ্রেফতার আব্দুল গোফফার পৌর শহরের ১নম্বর ওয়ার্ডের কাজি বলে জানা গেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গোফফার কাজি ও স্বামী শরিফ আল কামালের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা মামলা করেন বল্লমঝাড় ইউনিয়নের কোমড়পুর গ্রামের সোলাইমান সরকারের মেয়ে রিক্তা আক্তার শিখা।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ এপ্রিল গোফফার কাজির অফিসে সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের নশরতপুর গ্রামের আব্দুল হামিদ খন্দকারের ছেলে শরিফ আল কামালের সঙ্গে বিয়ে হয় রিক্তা আক্তারের। বিয়ে মোহরানা ধার্য করা হয় ১০ লাখ টাকা। বিয়ের কয়েকদিন পর কাবিননামা আনতে গেলে তিনি টালবাহানা করতে থাকেন। একপর্যায়ে ৩ মে অফিসে গিয়ে না পেয়ে অভিযুক্তের বাড়িতে যান ভুক্তভোগী।
এসময় কাজি প্রথমে কাবিনমানা দিতে অস্বীকার করলেও পরে একটি এক লাখ ১০ হাজার টাকার ভুয়া কাবিননামা দেন। ভুক্তভোগী তাৎক্ষণিকভাবে এটাকে ‘ভুয়া’ বলে দাবি করলে গোফফার কাজি তাকে ভয়ভীতি দেখান ও হুমকি দেন।
গোফফার কাজি মোটা অংকের টাকা ঘুস খেয়ে কাবিননামায় ১০ লাখের পরিবর্তে এক লাখ টাকা করায় তিনি প্রতারণা-বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় ৪ মে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী রিক্তা আক্তার। অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় বৃহস্পতিবার রিক্তা আক্তারের স্বামী শরিফ আল কামাল ও গোফফার কাজির বিরুদ্ধে মামলা নেয় পুলিশ।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কাবিনমানায় মোহরানা পরিবর্তনের মামলায় অভিযুক্ত কাজিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।