Image description

ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পদ্মা ব্যারেজ উদ্বোধনকে স্বাগত জানালেও তিস্তার ন্যায্য পানির অধিকার নিশ্চিত না করে উন্নয়ন পূর্ণতা পাবে না। তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় রংপুর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এক সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, “পদ্মা ব্যারেজের উদ্বোধনকে অভিনন্দন জানাই, তবে তিস্তার বিনিময়ে নয়। তিস্তার জায়গায় তিস্তাকে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দিতে হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও উত্তরাঞ্চলের মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ–এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এরশাদের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে অন্যান্য সরকার উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে যথেষ্ট মনোযোগ দেয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক ও জনমিতিক দিক থেকে দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলগুলোর একটি উত্তরবঙ্গ। রাজধানী থেকে দূরের জেলাগুলো বেশি অবহেলার শিকার হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিস্তা অববাহিকার নদীভাঙন, পানি সংকট ও কৃষি দুর্ভোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একসময় আশীর্বাদ হিসেবে পরিচিত নদীগুলো এখন মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীতে পলি জমে বর্ষায় বন্যা ও শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে সুপেয় পানির সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই পানি ব্যবস্থাপনা শুধু কৃষির জন্য নয়, মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গেও জড়িত।

জামায়াত আমির ঘোষণা দেন, ভবিষ্যতে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তার ভাষায়, “তিস্তার মুখে প্রথম কোদাল মেরে উন্নয়নকাজ শুরু করা হবে।”

তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান সরকার তিস্তা ইস্যুতে আন্দোলনের কথা বললেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।

শীর্ষনিউজ/