ফেসবুকে ব্যবহারকারীদের সমালোচনা করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, ফেসবুকের ওয়াল হয়ে গেছে, সবচেয়ে নোংরা ওয়াল। ফেসবুকে যারা লেখে তারা গুপ্তের চেয়ে খারাপ।
শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরের দিকে সিরাজগঞ্জ শহীদ শামসুদ্দিন স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাইছেন, আগামি প্রজন্ম যারা বেড়ে উঠবে তারা খেলাধুলা করেই বেড়ে উঠবে। না খেললে মস্তিস্ক উর্বর হয় না।
নিজের বাল্যকালের স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী বলেন, সারাবছর ইসলামিয়া কলেজ মাঠ ছিল খেলাধুলায় সরব। ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টনসহ নানা খেলা চলতো।
তিনি বলেন, মাঠ কেন্দ্রিক সোসাইটি গড়ে তোলেন। প্রত্যেকটা ইউনিয়নে দুইটা খেলার মাঠ থাকবে। প্রত্যেকটা স্কুলে মাঠ আছে। মাঠে খেলাধুলা করাতে হবে। বাচ্চাদেরকে খেলা শেখান, মেয়েদেরকে খেলা শেখান।
ইসলামিয়া কলেজ মাঠকে ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রূপান্তরের আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখানে ক্রিকেট একাডেমি বানাবো, ইনডোর ট্রেনিং হবে।
সিরাজগঞ্জের উন্নয়নে নিজের ব্যর্থতার কথা অকপটে স্বীকার করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, আমি আমার ব্যর্থতার কথা বলি। আমি তিনমাস হলো মন্ত্রী, সিরাজগঞ্জে এক চুল পরিমাণ কিছু করতে পারিনি। আমি স্বীকার করি। পারিনি কেন? আমি কো-অপারেশন পাইনি কারও কাছ থেকে। তাহলে এতদিনের সিরাজগঞ্জ সুন্দর ও সুশৃঙ্খল শহরে পরিণত হতো আপনারা কেউ সহযোগিতা করেননি আমাকে।
তিনি বলেন, এটা তো আমার একার দায়িত্ব নয়। হ্যাঁ, যেটা হবে আমার ট্রার্ম শেষ হলে সবাই বলবে অনেক কথা বলেছিলেন কিন্তু করেননি। কিন্তু কেন যে করলাম না আপনারা কিন্তু সেটা খুঁজবেন না। খালি ডিসি আর এসপি দিয়ে কইলেই হবে? আপনাদেরও নামতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সবাই ব্যবসা করবে, সবাই অর্থ রোজগার করবে-কিন্তু কেউ সমাজের কিচ্ছু করবে না। বাস রাস্তায় জড়ো ব্যবসা করবে। একজন দোকানদারকে ব্যবসা করতে দোকান খুলতে হয়। কিন্তু বাস ওয়লাদের লাখ টাকা বিনিয়োগ করবে কিন্তু বাসটা রাখার ব্যবস্থা করবে না। এটা সরকারি জায়গা আছে দখল করে ব্যবসা করবে। প্রত্যেকটা বাস মালিক যদি নিজেদের খরচায় নিজেদের বাস রাখার ব্যবস্থা করে, তাইলে শহরটায় বিশৃঙ্খলা থাকে না।
জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন খান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাহাব উদ্দিনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা, রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।