সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে সমকামিতায় লিপ্ত থাকার ঘটনায় দুই নেতাকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. শহীদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
অব্যাহতিপ্রাপ্ত দুই ছাত্রদল নেতা হলেন আরিয়ান শাহ রাব্বি ও মহিবুর রহমান নয়ন। উভয়েই ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তারা মেডিকেলটির বিইউএমএস (ইউনানী) ৩৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনিদিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিয়ান শাহ্ রাব্বি এবং মহিবুর রহমান নয়নকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যহতি প্রদান করা হলো। ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সভাপতি মো. রবিন খান ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহমেদ আজ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
এর আগে গত ২২ এপ্রিল রাতে ওই দুই ছাত্রদল নেতার সমকামিতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এ ঘটনায় হোস্টেলের ৪ ছাত্রের আবাসিকতা বাতিল করা হয়। একই সাথে ২৩ এপ্রিল বহিরাগত একজনসহ মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে কাফরুল থানা পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়।
এ নিয়ে গত ১৩ এপ্রিল ‘হোস্টেলে সমকামিতা: দুই ছাত্রদল নেতাসহ ৪ জনের সিট বাতিল, খাটলেন জেল’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস। এতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হলে একদিনের মাথায় তাদের শাস্তির আওতায় আনল ছাত্রদল।

উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল রাতে মেডিকেল কলেজটির মসজিদের গলি থেকে ৩৫ ব্যাচের ছাত্র শাহরিয়ার পলক উলঙ্গ অবস্থায় এক বহিরাগতের সঙ্গে আটক হন। তাকে জেরা করা অবস্থায় তিনি ক্যাম্পাসে থাকা আরো কিছু সমকামীর পরিচয় প্রকাশ করেন। এর মধ্যে আরিয়ান রাব্বি, নয়ন ও আহসানও ছিলেন। পরবর্তীতে তাদেরকে কাফরুল থানায় হস্তান্তর করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। একই দিন (২৩ এপ্রিল) একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ছাত্রাবাস থেকে তাদের সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক গত ১৩ মে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, ওই চার শিক্ষার্থীকে জেরা করলে তাদের মোবাইল থেকে ভয়ংকর তথ্য বের হয়ে আসে। মূলত তারা সমকামী নেতা এবং পুরুষ সমকামী (গে) কমিউনিটির প্রধান। প্রায় ৪০টি সমকামী গ্রুপের সাথে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া ওই চার শিক্ষার্থী হোস্টেলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদেরও সমকামিতায় লিপ্ত হতে প্ররোচিত করতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, আটকের পর আরিয়ান রাব্বির ডেস্ক থেকে বিপুল পরিমাণ যৌনচর্চায় ব্যাবহৃত জিনিসপত্র পাওয়া যায়। এমনকি হোস্টেলের ছাত্রদের খালি গায়ে থাকা অবস্থায় ছবি তুলে সমকামী গ্রুপে শেয়ার করারও প্রমাণ মিলেছে।
এদিকে এ ঘটনায় আটক একজন শিক্ষার্থী এইডস আক্রান্ত বলেও দাবি করেন তিনি। বলেন, ওই শিক্ষার্থী এমন কর্মকাণ্ডের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হয়ে এই ক্যাম্পাসে আসেন। এ ছাড়া তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে ২৮ ও ৩৩তম ব্যাচের আরও অন্তত তিনজনের নাম উঠে আসে।
ওই দিন সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. রাশিদুজ্জামান খান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়। ইতোমধ্যে তাদের কারাভোগের মেয়াদ শেষ হয়েছে। আমরা জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে তাদের সিট বাতিল করেছি। তবে তাদের ছাত্রত্ব থাকবে।