Image description

উত্তরা সেন্টার মেট্রো স্টেশনে নেমে পুলিশ বক্সের পাশ দিয়ে একটু বাঁয়ে এগোতেই চোখে পড়ল সারি সারি বাঁশের লাইন। প্রায় একবর্গ কিলোমিটার জুড়েই এ দৃশ্য। কিছু জায়গায় চলছিল বাঁশ বাঁধার কাজ। কাজ যেহেতু এখনো চলছে, ধরেই নেওয়া যায় যে বাঁশের সারি আরও লম্বা হবে। কোরবানির ঈদের আর খুব বেশি দিন বাকি নেই। হাটের আগাম প্রস্তুতি হিসেবেই দিয়াবাড়িতে চলছে এই হাট তৈরির কাজ। অথচ হাটের ইজারা প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। এমনকি হাট বসানোর সময়ও আসেনি। তারপরও অনেকটা গায়ের জোরেই জায়গা দখলের জন্য হাট তৈরি করে ফেলছেন ইজারাদাররা।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, চূড়ান্ত ইজারাদারদের তালিকা মোটামুটি চূড়ান্ত। সব কাজ শেষ করতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ লাগবে। যদিও হাট বসার নির্ধারিত সময় এখনো শুরু হয়নি; কিন্তু ইজারাদাররা শেষ করছেন হাটে বাঁশের খুঁটি বসানোর কাজ। শুধু দিয়াবাড়ির অস্থায়ী হাটই নয়, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অস্থায়ী পশুর হাটের চিত্রও একই রকম।

দুই সিটি করপোরেশন বলছে, এটা হাটের প্রস্তুতি। অথচ কোরবানির দুই সপ্তাহ আগে থেকেই গণপরিসর দখল করে প্রস্তুতির কাজ করার এখতিয়ার নেই কারও। হাটের জন্য মাঠ ও জনপরিসর দখল করে নেওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে সংশ্লিষ্ট এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাপন। শিশুরা খেলতে যেতে পারছে না, হাঁটার জায়গাও বন্ধ হয়ে গেছে।

সরকারি মালিকানাধীন খোলা জায়গা যা কোনো আর্থিক বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তৈরি নয়, বরং যেখানে যেকোনো বয়স, বর্ণ ও অর্থনৈতিক অবস্থার মানুষ বাধাহীনভাবে যেতে পারে বা উপভোগ করতে পারে— এমন স্থানগুলোকে বলা হয় গণপরিসর। নিয়ম অনুযায়ী, জনপ্রতি ৯ বর্গমিটার করে গণপরিসর থাকা প্রয়োজন। অথচ ঢাকা শহরে যত মানুষ বাস করে, সেই হিসাবে তাদের জন্য যে পরিমাণ গণপরিসর দরকার, তার তুলনায় ৯০ শতাংশের মাত্র এক ভাগ গণপরিসর রয়েছে। তাও আবার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাজে সিটি করপোরেশন ব্যবহার করে। ফলে ব্যাহত হয় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনের চলাচল। শিশুরা হারায় খেলাধুলার স্বাধীনতা।

এ বছর এখন পর্যন্ত উত্তর সিটিতে সাতটি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা চূড়ান্ত হয়েছে। আরও আটটির ইজারা প্রক্রিয়া চলমান। এ ছাড়া সংস্থাটির গাবতলীতে রয়েছে একটি স্থায়ী পশুর হাট। অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ইজারা হয়েছে আটটি হাটের, একটির প্রক্রিয়া চলমান। এ ছাড়া আরও দুটি হাট ইজারার অপেক্ষায়। এর বাইরে সারুলিয়ায় ডিএসসিসির একটি স্থায়ী পশুর হাট রয়েছে।

ইজারার শর্ত হলো, কোরবানির ঈদের দিন ও আগের চার দিন, মোট পাঁচ দিন এসব অস্থায়ী হাট বসতে পারবে। খুঁটি পোতাসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য আরও দুদিন সময় পেতে পারেন ইজারাদার। সে হিসেবে আগামী ২২ তারিখ থেকে প্রস্তুতি শুরু করার কথা। কিন্তু তার অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকেই জনপরিসর দখল শুরু করেছেন ইজারাদাররা।

কোরবানির এতদিন আগে ইজারাদাররা মাঠ দখলের বিষয়ে প্রশ্ন করলে ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত ওসমান লিখিত উত্তর দেন। তিনি বললেন, ইজারার শর্ত মতে নির্দিষ্ট দিনে এবং নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে হাট বসানোর সুযোগ নেই।

তবে ইজারাদারদের প্রস্তুতির বিষয় থাকে, সে প্রসঙ্গও টানলেন তিনি। যদি কেউ ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আশ্বস্ত করলেন।

ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম আগামীর সময়কে বললেন, ‘আগেই মাঠ দখলের কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তাদের সতর্ক করাও হয়েছে। তবে প্রস্তুতির জন্য আমরা একটু ছাড় দিয়েছি।’

উত্তর সিটির যে অস্থায়ী হাটগুলো রয়েছে, সেগুলো হলো— মিরপুর-৬-এর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা, মিরপুর কালশী বালুর মাঠ, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, পূর্ব হাজীপাড়ার ইকরা মাদ্রাসা এলাকা, উত্তরা দিয়াবাড়ি, কীচকুড়া বাজার সংলগ্ন রহমান নগর আবাসিক এলাকা এবং খিলক্ষেত থানাধীন খালপাড়া চেকপোস্ট সংলগ্ন এলাকা।

দক্ষিণ সিটির অস্থায়ী হাটগুলো হলো— পোস্তগোলা, উত্তর শাহজাহানপুর, আমুলিয়া, শিকদার মেডিকেল, কাজলা ব্রিজ, বনশ্রী, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও গোলাপবাগ।