নাচ-গান করার অপরাধে চুয়াডাঙ্গায় সুবর্ণা আক্তার নামে এক নারীর লাশ দাফনে বাধা দিয়েছেন স্থানীয়রা কতিপয় ব্যক্তি।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে ওই নারীর লাশ শহরতলীর দৌলতদিয়াড়ের বাড়িতে এসে পৌঁছালে সেখানে দাফন কাজে বাধা দেয় এলাকার কতিপয় লোকজন।
বুধবার (১৩ মে) রাতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সুবর্না আক্তার। সেখানে স্বামীর সাথে বসবাস করতেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে তাকে চুয়াডাঙ্গার শহরতলীর দৌলতদিয়াড়ের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তার লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সুবর্ণা ছোট থেকেই নাচ-গান করে বেড়াতেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচতে যেতেন।
এসব কাজে বাধা দিলে বহিরাগত লোকজন এনে এলাকাবাসীকে হুমকি ধামকি দিতেন। তাছাড়া তারা এখানকার স্থানীয় নন। কয়েক বছর আগে এই এলাকায় ভাড়ায় আসেন।
সুবর্না আক্তারের দাফন তার বাবা অথবা স্বামীর গ্রামে দেওয়ার জন্য দাবি জানান তারা।
আসাদুজ্জামান নামে স্থানীয় একজন বলেন, ‘মেয়েটির চরিত্র ভালো না। এলাকার লোকজন তাকে আমাদের কবরস্থানে দাফন করতে আপত্তি জানিয়েছে। তার বাবা কিংবা স্বামীর বাড়িতে দাফন করুক।’
মিনারুল ইসলাম নামে আর একজন বলেন, ‘এটি আমাদের এলাকাবাসীর কবরস্থান। সে আমাদের কবরস্থানের সদস্য না। এর আগে সদস্য হওয়ার কথা বললেও তারা অগ্রাহ্য করেন।’
সুবর্না আক্তারের সৎ বাবা ইসরাইল হোসেন বলেন, এর আগে আমাদের পরিবারের আরেক সদস্যের মৃত্যু হয়, তখন দাফনে বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু এখন সুবর্নার লাশ দাফনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কবর খুঁড়তে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা চিন্তা করছি অন্য কোথাও দাফন করার।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা দৌলতদিয়াড় দক্ষিণপাড়ার ওহিদ মোল্লার মেয়ে সুবর্না আক্তারের (৩৫) বিয়ে হয় চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের কুলচারা ক্যানালপাড়ার কাউসারের ছেলে তুহিনের সঙ্গে। তাদের পরপর দুই মেয়ে, এক ছেলে জন্ম নেয়।
সংসারে দাম্পত্য কলহের জেরে ৬ বছর আগে স্বামী-সন্তান রেখে ঝিনাইদহের শৈলকুপার পাভেলের সঙ্গে বিয়ে করে সুবর্না। সুবর্নার পরিবারের লোকজনের দাবি স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি জেনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা চলছে।