রংপুর আইন কলেজে অধ্যক্ষের রুমে ঢুকে মব সৃষ্টি করে মানসিক ভারসাম্যহীন এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এসময় শিক্ষার্থীকে রক্ষা করতে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে এশিয়া পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর আইন কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাজেদ হোসেন তাতা। তবে কলেজের ভিতরে মব সৃষ্টি করে মানসিক ভারসাম্যহীন শিক্ষার্থীকে মারধরের কথা স্বীকার করলেও তার কক্ষে মারধরের ঘটনা অস্বীকার করেছেন।
ভুক্তভোগী মানসিক ভারসাম্যহীন শিক্ষার্থী মুনতাসির মামুন নীরব রংপুর নগরীর কামাল কাছনা এলাকার মো. কবির মিয়ার সন্তান।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, এলএলবি প্রথম বর্ষের ক্লাস চলাকালীন বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে ওই মানসিক ভারসাম্যহীন শিক্ষার্থী হঠাৎ তার ব্যবহৃত দুইটি মুঠোফোন ব্যবহার করে সহপাঠীদের ভিডিও করা শুরু করে। এরপরেই শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন উপস্থিতির হাজিরা শিট নিয়ে বাহিরে দৌড় দিয়ে কলেজ সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় গিয়ে হিন্দু না মুসলমান এসব জিজ্ঞেস করে ভিডিও করা শুরু করলে স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই শিক্ষার্থী কলেজের ভিতরে প্রবেশ করে।
এ সময় কলেজের অধ্যক্ষ ও স্টাফরা শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় মানসিক ভারসাম্যহীন ওই শিক্ষার্থীকে নিয়ে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এদিকে এ ঘটনাকে ইস্যু করে প্রায় ২০ জন দুর্বৃত্ত কলেজে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হয়। শিক্ষার্থীরা মানসিক ভারসাম্যহীনতার কথা বলার পরে দুর্বৃত্তরা মব সৃষ্টি করে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করে।
এ বিষয়ে রংপুর আইন কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাজেদ হোসেন তাতা জানান, একজন মানসিক ভারসাম্যহীন শিক্ষার্থী সহপাঠীদের হঠাৎ ভিডিও করা শুরু করলে শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে উঠে। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীকে বাহিরে গিয়ে স্থানীয়দের ভিডিও করে কলেজে প্রবেশের পরেই শিক্ষার্থীকে আমাদের হেফাজতে নেই। এসময় বাহিরে থেকে লোকজন এসে মব সৃষ্টি করে মারধর করেছে। পরবর্তীতে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে শিক্ষার্থীকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান জানান, জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ কল পেয়ে পুলিশকে সেখানে পাঠানো হয়েছিল। এ পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি।