Image description

“জনপ্রতিনিধি মানেই জনগণের সেবক, শাসক নন”—এই দর্শনকে সামনে রেখে জনগণের সঙ্গে সরাসরি সেতুবন্ধন তৈরিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

 

মঙ্গলবার পীরগাছা উপজেলা পরিষদ চত্বরে দিনব্যাপী ‘ত্রৈমাসিক মতবিনিময়’ সভায় তিনি সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হন।

এ সময় তিনি প্রথাগত জনসভার পরিবর্তে ‘ওয়ান-টু-ওয়ান’ বা একান্ত আলাপচারিতার মাধ্যমে জনগণের অভাব-অভিযোগ শোনেন এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগ নেন। এমপি আখতার হোসেন বলেন, প্রতি তিন মাস অন্তর তিনি এলাকায় গিয়ে সরাসরি জনগণের সমস্যা শুনে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, “ভিড়ের কারণে অনেক সময় মানুষের কথা চাপা পড়ে যায়। তাই একান্ত আলাপচারিতার মাধ্যমে প্রত্যেকের কথা শোনা হচ্ছে।”

এমপি আরো জানান, এলাকার রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে তিনি নিয়মিত জনগণের সঙ্গে আলোচনা করছেন। একই সঙ্গে প্রতিটি কাজের অগ্রগতি ও বরাদ্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।

কৃষকদের সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি তিনি জাতীয় সংসদে তুলে ধরবেন। এছাড়া এনআইডি জটিলতা নিরসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণে দ্রুত সুপারিশপত্র প্রদানের মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি আরো জানান, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘জনসেবা সেন্টার’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা ইতোমধ্যে চিকিৎসাসেবা সহায়তার মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে।

এমপি আখতার হোসেন বলেন, “ঢাকায় বসে নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি গ্রামের মানুষের ওপর পড়ে। তাই মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা জানা এবং জনগণের মতামত নিয়ে সংসদে যাওয়া আমার নৈতিক দায়িত্ব।” এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় তরুণ ও সচেতন মহল।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, “সাধারণত নির্বাচনের পর এমপিরা জনগণের কাছ থেকে দূরে চলে যান। কিন্তু আখতার হোসেন ভাইয়ের এই উদ্যোগ নতুন আশা দেখাচ্ছে। ডিজিটাল মাধ্যমে কাজের হিসাব দেওয়ায় রাজনীতিতে স্বচ্ছতা বাড়ছে।”

সমাজকর্মী শফিকুল ইসলাম বলেন, “এমপি যখন সরাসরি মানুষের কথা শোনেন, তখন মনে হয় আমাদের কথা বলার একটি জায়গা তৈরি হয়েছে। তার এই উদ্যোগ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের জন্যও উদাহরণ হতে পারে।”

স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে রংপুর-৪ আসনে একটি জবাবদিহিতামূলক ও জনমুখী রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে উঠবে।

প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নামাজের বিরতি দিয়ে কাউনিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।