পরিবেশ রক্ষা কোনো তাত্ত্বিক কথা নয়, বরং এটি আমাদের অভ্যাসের প্রতিফলন। আমি যেখানেই যাই, আমার ব্যবহৃত টিস্যুগুলো পকেটে রেখে দেই এবং বাসায় ফেরার পর নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলি। নিজের যাপিত জীবনের এমন এক ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ অভ্যাসের কথা তুলে ধরে পরিবেশ সংরক্ষণে নাগরিকদের ব্যক্তিগত সচেতনতার আহ্বান জানিয়েছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের ‘মনিটরিং এন্ড এনফোর্সমেন্ট উইং এর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও মান উন্নয়ন এবং দূষন নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. লুৎফর রহমান।
বক্তব্য প্রদানকালে জেলা প্রশাসক পরিবেশের ওপর মানুষের নিষ্ঠুর আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সব ধর্মেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যারা কলকারখানায় ইটিপি (ETP) ব্যবহার করছে না, অযথা গাড়ির হর্ন বাজাচ্ছেন কিংবা যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলছেন, তারা মূলত মানুষরূপী চতুষ্পদ প্রাণী।
তিনি আরও যোগ করেন, শব্দ দূষণ রোধে আমি সবসময় আমার ফোন সাইলেন্ট রাখি যাতে কাউকে কষ্ট না দেই। আসুন, আমরা আমাদের মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে সুঅভ্যাস গড়ে তুলি।
আলোচনা সভায় বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ ও প্লাস্টিক বর্জ্যের ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তারা সতর্ক করে বলেন, এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে চরম মূল্য দিতে হবে। সংকট মোকাবিলায় বেশি বেশি গাছ লাগানো এবং প্লাস্টিক বর্জন করে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, পরিচালক, মনিটরিং এন্ড এনফোর্সমেন্ট। সৈয়দ আহম্মদ কবীর, উপপরিচালক, মনিটরিং এন্ড এনফোর্সমেন্ট। মোঃ শাহরিয়ার নজির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), গাজীপুর।
পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আরেফিন বাদলের সঞ্চালনায় সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও পরিবেশকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসকের এমন ব্যক্তিগত অভ্যাসের গল্প উপস্থিত সবাইকে নিজেদের জীবনধারা পরিবর্তন করে পরিবেশ রক্ষায় ব্রতী হতে অনুপ্রাণিত করেছে।