দেশে হাম ও উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) মৃত্যু হয়েছে আরও ৯ শিশুর। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে তিন শিশুর। আর হাম সন্দেহে মৃত্যু হয়েছে ছয় শিশুর। ১৫ মার্চ থেকে ১২ মে পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৬৮ জন নিশ্চিত রোগী এবং ৩৫৬ জন সন্দেহজনক রোগীসহ সর্বমোট মৃত্যু হয়েছে ৪২৪ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সবশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, ১১ মে সকাল ৮টা থেকে ১২ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশ জুড়ে নতুন করে ১ হাজার ১০৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৮৭ জন।
সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৯ জনের মধ্যে তিনজনের শরীরে নিশ্চিতভাবে উপস্থিতি পাওয়া গেছে হামের। বাকি ছয়জন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে (সন্দেহজনক)।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশের মধ্যে সিলেট বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জেলা হিসেবেও বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে দুজনের।
গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামের এই প্রকোপে সারা দেশে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৫৬৭ জনে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ২৪ জনের। এ পর্যন্ত মোট ৩৬ হাজার ৮৮১ জন হাম আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩২ হাজার ৮৭৭ জন। ১৫ মার্চ থেকে ১২ মে পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৬৮ জন নিশ্চিত রোগী এবং ৩৫৬ জন সন্দেহজনকসহ সর্বমোট মৃত্যু হয়েছে ৪২৪ জনের।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হামের টিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।