দেশে ‘মব’ কালচার পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্যে বিদ্যমান আইন সংশোধন ও সংযোজন করে যুগোপযোগী করা হবে। একই সঙ্গে জুয়া, অনলাইন জুয়া, সাইবার ক্রাইম ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধেও নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ রবিবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ মিলনায়তনে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উদ্যাপন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
‘মব কালচার’ প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘এ বিষয়ে আমরা আগেই বলেছি। প্রচলিত আইনের আওতায় যতটুকু সম্ভব, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে এ বিষয়ে আইনি সংস্কার বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে সেটিও করা হবে। আমি আজ এখানে স্বরাষ্ট্রসচিব ও আইজিপিকে অনুরোধ করেছি, বিষয়টি যেন আবার আমাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।’
‘কারণ মব কালচার আলাদাভাবে মোকাবিলায় নতুন আইন বা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। প্রচলিত আইন দিয়ে পুরোপুরি এটি মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে না’— যোগ করেন তিনি।
জুয়া ও অনলাইন জুয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘এগুলো বন্ধে কী ধরনের আইনি কাঠামো প্রয়োজন, তা নির্ধারণে আমরা একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছি। এই কমিটি অনলাইন জুয়া কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি সাইবার ক্রাইম ও মানি ট্রান্সফার-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো একই আইনের আওতায় আনা যায় কি না, তাও পর্যালোচনা করবে।’
‘আইনের খসড়া এলে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। কারণ সময় বদলাচ্ছে, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে, ইন্টারনেটভিত্তিক অপরাধের ধরনও পাল্টে গেছে। তাই পুরনো আইন দিয়ে এখন আর চলা সম্ভব নয়। নতুন আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এসব অপরাধ কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজন হলে আমরা অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতাও গ্রহণ করব।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে ওভারটাইম ভাতার কথা ভাবছে সরকার, যা তাদের মনোবল বৃদ্ধি ও সেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ পরিদর্শক থেকে কনস্টেবল পদ পর্যন্ত ওভারটাইম ভাতা বিবেচনা করা হতে পারে।’
গত ২ মাসে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে।’